জুমার দিন মুসলিমদের জন্য বিশেষ মর্যাদার দিন। এ দিনের যেমন বিশেষ আমল আছে, তেমনি কিছু কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনাও আছে। প্রথম আলোয় এমন কয়েকটি কাজের কথা লিখেছেন ঢাকার রাজাবাড়ী জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহর শিক্ষক ফয়জুল্লাহ রিয়াদ।
জুমার আজানের পর কেনাবেচায় ব্যস্ত থাকা অনুচিত। সুরা জুমুআর ৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ জুমার আহ্বান শুনে আল্লাহর স্মরণের দিকে যেতে এবং বেচাকেনা ছেড়ে দিতে বলেছেন। খুতবার সময় কথা বলা নিষেধ; এমনকি পাশের জনকে ‘চুপ করো’ বলাও অনর্থক কথা বলে গণ্য, এসেছে সহিহ বুখারির হাদিসে (৯৩৪)। মোবাইল দেখা বা অযথা নড়াচড়াও এড়িয়ে চলতে বলেছেন লেখক।
দেরিতে এসে মুসল্লিদের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনে যাওয়া উচিত নয়; এমন একজনকে রাসুল (সা.) বসে পড়তে বলেছিলেন, কারণ তিনি মানুষকে কষ্ট দিচ্ছিলেন (আবু দাউদ, ১১১৮)। অনুমতি ছাড়া দুজনের মাঝখানে ঢুকে বসা বা কাউকে তার জায়গা থেকে উঠিয়ে সেখানে বসাও হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে।
পেঁয়াজ-রসুন, তামাক বা জর্দার কারণে মুখে দুর্গন্ধ থাকলে তা দূর না করে মসজিদে যাওয়া ঠিক নয় (সহিহ বুখারি, ৭৩৫৯)। বরং জুমার দিন গোসল, মিসওয়াক ও সুগন্ধি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। বৈধ ওজর ছাড়া জুমা ছেড়ে দেওয়া গুরুতর পাপ বলে সতর্ক করা হয়েছে সহিহ মুসলিমের হাদিসে (৮৬৫); অসুস্থতা বা সফরের মতো ওজরে বিধান ভিন্ন।
লেখক মনে করিয়ে দিয়েছেন, জুমার দিন নবীজির ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠের নির্দেশ আছে (আবু দাউদ, ১০৪৭), আর এ দিনে এমন একটি সময় আছে যখন দোয়া কবুলের বিশেষ আশা থাকে (সহিহ বুখারি, ৯৩৫); কোনো কোনো বর্ণনায় আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের কথা এসেছে। তাই এই আমলগুলো থেকে নিজেকে বঞ্চিত না রাখার পরামর্শ তাঁর।
ছবি: Azim Khan Ronnie / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)