অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় ওয়াইন-আঙুর উৎপাদন অঞ্চল দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রিভারল্যান্ডের মুরথোতে মারে নদীর তীরের একটি খামারের ৪০ একর আঙুরবাগান আবার দেশি গাছপালায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জায়গাটি এখন বিপন্ন রিজেন্ট প্যারট নামের টিয়াপাখির আশ্রয়।
টনি ও শেরি টাউনসেন্ড দম্পতি ২০২২ সালে ঠিক করেন, আঙুরগাছের বদলে অন্য ফসল না লাগিয়ে জমিটিকে দেশি ঝোপজঙ্গলে ফিরিয়ে দেবেন। শেরি টাউনসেন্ড বলেন, আঙুরবাগান সামলাতে অনেক সময় ও পরিশ্রম লাগত, আর তাঁরা সেই উদ্দেশ্যে জমিটি কেনেননি; আশপাশের অন্য চাষিদের তুলনায় তাঁদের জন্য সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল।
নব্বইয়ের দশকের শেষ থেকে আঙুর শিল্পে যুক্ত এই দম্পতি খামারটিতে আটটি মৌসুম আঙুর তুলেছেন। টনি টাউনসেন্ড বলেন, ২০২২ সালের পর দাম পড়তে থাকে। আঙুরের অতিরিক্ত সরবরাহ আর বিশ্বজুড়ে ওয়াইনের চাহিদা কমায় পুরো রিভারল্যান্ডেই চাষিরা বাগান উপড়ে ফেলছেন। শিল্প বিশেষজ্ঞ ও রাজ্য সরকার কাঠবাদাম বা জলপাইয়ের মতো লাভজনক ফসলে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে, যা ব্যয়বহুল; সরকারের সদ্য ঘোষিত ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলারের সহায়তা প্যাকেজ টাউনসেন্ডদের জন্য দেরিতে এসেছে।
মারেল্যান্ডস অ্যান্ড রিভারল্যান্ড ল্যান্ডস্কেপ বোর্ডের সঙ্গে মিলে এই পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। খামারটি রিজেন্ট প্যারটের ওড়ার পথের ওপর; বাসা বাঁধার জায়গার অভাবসহ নানা কারণে কয়েক বছর ধরে পাখিটির সংখ্যা কমছে, বোর্ডের সর্বশেষ গণনায় রিভারল্যান্ডে মাত্র ৪০০ প্রজননক্ষম জোড়া পাওয়া গেছে। বিপন্ন প্রাণী বিশেষজ্ঞ মেলিসা বারফোর্ড বলেন, পাখিগুলো নদীর ধারে রিভার রেড গাম গাছে ডিম পাড়ে কিন্তু খাবার খোঁজে ম্যালি ঝোপে, তাই মাঝপথে খাবার থাকা জরুরি।
৩৫ বছর ধরে পাখিটির জরিপ করা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রিজেন্ট প্যারট রিকভারি টিমের চেয়ারম্যান কেভিন স্মিথ বলেন, দেশি গাছপালা ফিরিয়ে প্রজাতিটিকে সাহায্যের সবচেয়ে ভালো উদাহরণ এখন পর্যন্ত টাউনসেন্ডদের খামার। চারা বাঁচাতে দম্পতি সেচের পুরোনো পলি পাইপের কিছুটা আবার ব্যবহার করেছেন এবং নিজেদের পানির বরাদ্দের সামান্য অংশ কাজে লাগিয়েছেন; পরিবারের চার প্রজন্ম আর স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থীরা চারা লাগানোয় হাত লাগিয়েছে।
চার বছরে জায়গাটিতে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। টাউনসেন্ডরা আশা করেন, আঙুর চাষ ছেড়ে দেওয়া অন্য চাষিরাও এ পথ ভেবে দেখবেন। প্রতিবেদনটি লিখেছেন এবিসি রিভারল্যান্ডের জ্যাকসন বাইর্ন।
ছবি: Feral Arts / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: এবিসি রুরাল





মন্তব্য
(০)