প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের প্রথম দফার ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে নেওয়া ৩৫টি কার্যক্রমের অধিকাংশ শতভাগ এবং বাকিগুলো ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী ইশতেহারের ‘জাল যার, জলা তার’ নীতি বাস্তবায়নে জলমহাল, উপকূলীয় খাল ও হাওরের ইজারা বাতিলের উদ্যোগের পাশাপাশি ২০০ মৎস্যজীবী সংগঠনের নিবন্ধন ও হালনাগাদ এবং ২৭ হাজার ৯৬৯টি জলমহালের তালিকা করা হয়েছে। মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকাল ও ৫৮ দিনের সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞায় শতভাগ জেলেকে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে; কাপ্তাই লেকের জেলেদের খাদ্য সহায়তার সঙ্গে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, সবজিবাগান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় অর্থায়ন করা হয়েছে।
নিরাপদ মাছ উৎপাদনে তিন শতাধিক মৎস্যখাদ্য কারখানা পরিদর্শন ও ২৫০টি নমুনা পরীক্ষা, ন্যাশনাল রেজিডিউ কন্ট্রোল প্ল্যানে আরও ৬০টি নমুনা, ৬০টি পশুখাদ্য ফিডমিল পরিদর্শন ও তিন শতাধিক নমুনা পরীক্ষা হয়েছে; পাঙাশের স্বল্পমূল্যের খাদ্য ফর্মুলা ও পাঙাশের টিকা উদ্ভাবিত হয়েছে। সরকারি হ্যাচারির ডিজিটাল ডেটাবেজে ১১৪টি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, উপকূলের লবণাক্ত ও খরাপ্রবণ এলাকায় কৈ, শিং, পাবদা ও পাঙাশ চাষে ১০০টি খামার স্থাপন এবং গলদা-বাগদা নিয়ে একটি সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষায় মৎস্যে তিনটি পাইলট স্কিম ও প্রাণিসম্পদে ৩ হাজার ৬০০ প্রাণীকে বীমার আওতায় আনা হয়েছে।
ব্লু ইকোনমিতে গভীর সমুদ্রে টুনা ও পেলাজিক মাছ ধরতে দুটি লং-লাইনার টুনা ভেসেল ভাড়া নেওয়া, গভীর সমুদ্রে আহরণে পাঁচটিসহ মোট সাতটি জাহাজের অনুমোদন, কুয়াকাটা ও সলিমপুরকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা, ২৫টি সি-উইড চাষ প্রদর্শনী, ২৪টি ড্রাইং র্যাক বিতরণ ও ১০০ চাষির প্রশিক্ষণ হয়েছে; উৎপাদন বাড়াতে ২২০.২৪ টন পোনা অবমুক্ত, ৪০০ বিল নার্সারি ও ৪৫টি অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে।
প্রাণিসম্পদে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ১৮ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ, জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন, উন্নত জাতের ২২ লাখ ডোজ সিমেন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের মধ্যে ২০ হাজার ছাগল-ভেড়া ও ৬০ হাজার হাঁস-মুরগি বিতরণ এবং ৪ হাজার ৯৪১ শূন্যপদের বিপরীতে ১১–২০ গ্রেডে ৪৮৩ জনের নিয়োগ হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, খাতটির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত উৎপাদন বাড়ানোর সঙ্গে দাম কমানো—উৎপাদন বাড়লেই সবার কাছে মাছ-মাংস পৌঁছাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই; উৎপাদন খরচ কমাতে দরকার হলে কৃষির মতো ফিডেও ভর্তুকি দিতে হবে। ১৮০ দিনের কর্মসূচিকে ইতিবাচক বলে তিনি মাছচাষি ও খামারিদের স্বল্প সুদে ঋণ, উন্নত বাজারব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্যে অভিজ্ঞদের নিয়ে কার্যকর পরিকল্পনার পরামর্শ দেন।
প্রতিদিনের বাংলাদেশের ফারুক আহমাদ আরিফের প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: প্রতিদিনের বাংলাদেশ





মন্তব্য
(০)