ঋতু বদলের এই সময়ে অনেকে জ্বরে ভুগছেন। জ্বর নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণায় কেউ আতঙ্কিত হন, কেউ চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাকলী হালদারের পরামর্শ নিয়ে এমন আটটি ধারণা তুলে ধরেছে আজকের পত্রিকা।
সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রবণতা, জ্বর হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়া। ডা. কাকলী হালদার বলেন, অধিকাংশ জ্বরই ভাইরাসজনিত, যেখানে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই। অপ্রয়োজনে বা ভুল মাত্রায় খেলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়; পরে সত্যিকারের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে ওষুধ আর কাজ করে না। গ্যাস্ট্রিক, ডায়রিয়া এবং লিভার-কিডনির ওপর চাপও বাড়ে।
জ্বর মানেই বড় বিপদ নয়; এটি সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধের অংশ হতে পারে, আর হালকা ভাইরাস জ্বর অনেক সময় নিজে সেরে যায়। তবে তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ছাড়ালে উদ্বেগের কারণ। তিন মাসের কম বয়সী শিশুর তাপমাত্রা ১০০ দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) হলেই দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
না খেয়ে থাকলে জ্বর তাড়াতাড়ি সারে, এই ধারণাও ভুল। ঘাম ও অন্যভাবে শরীর থেকে তরল বেরিয়ে যায় বলে বেশি পানি পান এবং স্যুপ, পাতলা খিচুড়ি, নরম ভাত বা ফলের মতো খাবার অল্প অল্প করে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘাম হওয়া মানেই জ্বর সেরে যাওয়া নয়, আর গায়ে হাত দিয়ে জ্বর বোঝা যায় না; থার্মোমিটার দিয়ে মাপতে হবে।
জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, তীব্র মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি বা র্যাশ দেখা দিলে কিংবা জ্বর কয়েক দিন না কমলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। শিশুদের ওষুধের মাত্রা বয়স ও ওজন অনুযায়ী ঠিক করতে হয়।
ডা. কাকলী হালদারের পরামর্শ, জ্বর হলে আতঙ্কিত না হয়ে তাপমাত্রা মাপা, পর্যাপ্ত তরল খাবার ও বিশ্রামই প্রথম কাজ। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে কেবল উপসর্গ কমানোর ওষুধ, যেমন প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে; অ্যান্টিবায়োটিক লাগবে কি না, তা পরীক্ষা ও শারীরিক অবস্থা দেখে নিবন্ধিত চিকিৎসকই ঠিক করবেন।
লেখাটি আজকের পত্রিকার জীবনধারা পাতায় প্রকাশিত; লিখেছেন সিলভিয়া সামান্থা সেঁজুতি, তথ্যসূত্র কন্টিনেন্টাল হসপিটাল।
ছবি: Wellcome Collection / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: আজকের পত্রিকা




মন্তব্য
(০)