ফসলি জমি নষ্ট করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন বন্ধ, কৃষকদের সরকারি দরে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ এবং ক্ষেতমজুরসহ দরিদ্র মানুষের জন্য রেশনিং চালুর দাবি জানিয়েছে কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদ। রোববার সকাল ১১টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি ওঠে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ময়মনসিংহের ভালুকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বসানোর উদ্যোগ চলছে। তাঁদের দাবি, ভালুকায় ফসলি জমি ও বসতবাড়ি এলাকায় প্রায় ১৭০ একর জমি স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্ত্রীর নামে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, এবং সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা প্রথমে আপত্তি জানালেও পরে চাপের মুখে অনাপত্তিপত্র দিয়েছেন।
তাঁরা বলেন, সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী উর্বর ফসলি জমি ও বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বসানোর সুযোগ নেই; এসব প্রকল্প হওয়া উচিত উপকূলীয় ও চরাঞ্চলের পতিত খাসজমিতে বা যেখানে মানুষের ক্ষতি হবে না। আগের সরকারের সময়ে ফসলি জমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে অনেক কৃষক কর্মহীন হয়েছেন বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
সারসংকটের কথাও ওঠে সমাবেশে। বক্তারা বলেন, ধানের গত মৌসুমের শুরু থেকে কৃষক পর্যাপ্ত সার পাচ্ছেন না। সরকার দেশে সারের সংকট নেই বললেও বাজারে সরকারি দরে সার মিলছে না, বেশি দাম দিয়েও অনেকে কিনতে না পারায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দ্রব্যমূল্য আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা জানিয়ে তাঁরা অবিলম্বে রেশনিং চালু, ক্ষেতমজুর পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং বর্গাচাষিদের জন্য কৃষি কার্ড নিশ্চিত করার দাবি জানান। এসব দাবিতে আগামী ৫ অক্টোবর জেলায় জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
পরিষদের সমন্বয়ক ও ক্ষেতমজুর সমিতির কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম এ সবুর, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান, জাতীয় কৃষক-খেতমজুর সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সাত্তারসহ কয়েকটি কৃষক সংগঠনের নেতারা। সঞ্চালনা করেন ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার।
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)