'আগে বাজারে গিয়ে ভাবতাম কী কিনব, এখন ভাবতে হয় কী বাদ দিলে মাসটা চলবে।' বিমা কোম্পানির কর্মী মাহিম আহমেদের এ কথায় উঠে এসেছে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের চাপ। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদক গোলাম মওলার প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, নিত্যপণ্যের দাম আর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে যাতায়াত, গ্যাস, বিদ্যুৎ, খাবার, শিক্ষা ও চিকিৎসা, সংসারের প্রায় প্রতিটি খাতেই খরচ বেড়েছে, অথচ আয় সে হারে বাড়েনি।
সবচেয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারের তালিকায়। সীমিত আয়ের অনেক পরিবার মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ও ফল কেনা কমিয়েছে; মাছ-মাংসের বদলে ডিম, ডিমের বদলে ডাল বা কম দামের খাবার বেছে নেওয়া বাড়ছে। মাহিম আহমেদের পাঁচ সদস্যের পরিবারে আগে সপ্তাহে অন্তত এক দিন মাছ-মাংস থাকত; এখন প্রায়ই মাংস বাদ দিয়ে মাছ বা ডিম কেনেন, দাম বেশি হলে ডিমও কম কেনেন। কেউ বাইরে খাওয়া বন্ধ করেছেন, কেউ রিকশা-বাসের বদলে হাঁটছেন।
বড় খরচ মেটাতে কেউ কেউ ব্যাংকের ভোক্তাঋণ বা ক্রেডিট কার্ডে ভরসা করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুনে ভোক্তাঋণ বেড়েছে ৫ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা; জুন শেষে স্থিতি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা, মার্চ শেষে যা ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত নয় মাসে বৃদ্ধি ১৩ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা। তবে এ ঋণে বাড়ি, গাড়ি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ক্রেডিট কার্ডের ঋণও আছে, তাই পুরোটা দৈনন্দিন খরচের জন্য নয়।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, ভোক্তাঋণের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখাচ্ছে অনেক পরিবার বাড়তি ব্যয় সামলাতে ঋণের ওপর নির্ভর করছে; আয় না বাড়লে স্বল্পমেয়াদে এটি সাহায্য করলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিবারের ঋণের বোঝা ও আর্থিক ঝুঁকি বাড়তে পারে।
একই সময়ে উৎপাদনশীল খাতে ঋণের চাহিদা দুর্বল। মার্চ থেকে জুনে শিল্প খাতে ঋণ বেড়েছে মাত্র ৫৫২ কোটি টাকা, নির্মাণ খাতে স্থিতি কমেছে ৩ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা। বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান না হলে উদ্যোক্তারা নতুন ঋণ নিয়ে বিনিয়োগে যেতে চাইবেন না। একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, করপোরেট ঋণের চাহিদা কমায় অনেক ব্যাংক এখন খুচরা ও ব্যক্তিগত ঋণে বেশি নজর দিচ্ছে।
ছবি: mohigan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন



মন্তব্য
(০)