শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো এবং ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধি একসঙ্গে কেনিয়ার অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএফপিআরআইয়ের (IFPRI) গবেষকদের এই মডেলভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে সিজিআইএআর।
একটি পরিস্থিতিতে এই যৌথ ধাক্কায় আরও প্রায় ৭ লাখ ৫৬ হাজার মানুষ দারিদ্র্যে পড়তে পারে, আর প্রায় ৪৯ লাখ মানুষ নতুন করে অপুষ্টির শিকার হতে পারে। মডেল অনুযায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হবে, বিশেষ করে কৃষি উৎপাদন কমবে এবং খাদ্যের দাম বাড়বে। তবে প্রভাব কতটা বড় হবে এবং কোথায় কতটা পড়বে, তা এখনো অনিশ্চিত বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
এল নিনো হলো পূর্ব ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকা, যা বিশ্বের অনেক অঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টির ধরন বদলে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের নোয়া-র জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, ২০২৬-২৭ সালে খুব শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি, আর এর চূড়া ১৯৫০ সালের পর সব এল নিনোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৭০ শতাংশ।
একই সময়ে ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে জ্বালানি ও সারের দাম বেড়েছে, যা খাদ্য উৎপাদনের প্রধান দুই খরচ।
কেনিয়ার এই বিশ্লেষণ করেছেন এমের্তা আরাগিয়ে, শাদ্রাক মোয়াতু, আদান শিবিয়া ও ক্রিস হিলব্রুনার। ইথিওপিয়া, কেনিয়া, মালাউই ও ভারত এবং বৈশ্বিক খাদ্যব্যবস্থার ওপর দুই ধাক্কার প্রভাব নিয়ে আইএফপিআরআইয়ের ধারাবাহিক লেখার এটি তৃতীয় পর্ব। অর্থনৈতিক মডেল ও নীতি গবেষণা মিলিয়ে তৈরি এই ধারাবাহিক ৮ অক্টোবরের একটি নীতি সেমিনারে উপস্থাপিত হয়।
ছবি: Department of Foreign Affairs and Trade / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)





মন্তব্য
(০)