আসন্ন সুপার এল নিনোর তাপে এখন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিশ্বে আনুমানিক ৪ লাখ ৫১ হাজার বাড়তি মৃত্যু হতে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল, আর দেশ হিসেবে নাইজেরিয়া। দ্য কনভারসেশনে প্রকাশিত ও ডাউন টু আর্থে পুনঃপ্রকাশিত এক নিবন্ধে এ কথা লিখেছেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের গবেষকেরা।
লেখক অর্থনীতিবিদ মাইকেল গ্রিনস্টোন ও টামা কার্লটন ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টসের মৌসুমি পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলিয়েছেন তাপমাত্রা কীভাবে ২৪ হাজার ৩৭৮টি অঞ্চলে মৃত্যুহার বদলায়, সে বিষয়ে পিয়ার-রিভিউড গবেষণা; তুলনা করা হয়েছে ১৯৯৬-২০২৫ সালের একই মাসগুলোর গড়ের সঙ্গে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা চার দেশে: নাইজেরিয়া, সুদান, নাইজার ও চাদ, মিলিয়ে বাড়তি ৬৬ হাজার ৮০০ মৃত্যু। এর প্রায় অর্ধেক, ৩১ হাজার ৪০০, নাইজেরিয়ায়, যেখানে জনসংখ্যা ২৩ কোটি ৭৫ লাখ; এরপর সুদানে ১৭ হাজার ৫০০, নাইজারে ১০ হাজার ও চাদে ৮ হাজার। আগামী ছয় মাসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তাপমাত্রা বিচ্যুতির কয়েকটি সাহেলজুড়ে হবে বলে পূর্বাভাস।
দারিদ্র্য ও বিদ্যুতের অভাব মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলছে। ২০২৫ সালে নাইজেরিয়ার ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ জাতীয় দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল বলে অনুমান, বিদ্যুৎ থাকা বাড়িতেও লোডশেডিং হয়; ২০২৪ সালে নাইজারের মাত্র ২১ শতাংশ ও চাদের ১৩ শতাংশ মানুষের বিদ্যুৎ ছিল। বয়স্ক, ছোট শিশু, দীর্ঘস্থায়ী রোগী এবং কৃষকের মতো খোলা জায়গায় কাজ করা মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।
গবেষকেরা পরীক্ষিত কিছু ব্যবস্থার কথা বলেছেন: তাপপ্রবাহের আগাম সতর্কবার্তা ও তাপ মোকাবিলা পরিকল্পনা, বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাছে পৌঁছানো, শীতলীকরণ কেন্দ্র ও পানি পানের স্থান, আর দুপুরের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়ে খোলা জায়গার কর্মীদের সুরক্ষা। তাঁদের মতে সাহেলের সরকারগুলোর এখনই বাড়তি কর্মী ও সরঞ্জাম দিয়ে হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা উচিত, যাতে তাপপ্রবাহের সময় হিটস্ট্রোকের রোগী সামলানো যায়।
ছবি: diasUndKompott / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ




মন্তব্য
(০)