জমিজুড়ে না ছিটিয়ে শুধু আগাছার গায়ে আগাছানাশক দেওয়া গেলে কৃষকের হাতে দমনের বিকল্প বাড়তে পারে, আবার আগাছানাশকের ব্যবহারও অনেক কমতে পারে। আগাছা দমন বিষয়ক গবেষণা নেটওয়ার্ক গ্রো (GROW)-এর সারসংক্ষেপ তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি সাময়িকী ক্রপলাইফ এ খবর দিয়েছে। বিষয়টি সবচেয়ে জরুরি জিএমও নয় এমন ভুট্টা ও সয়াবিনচাষিদের জন্য, যাঁদের হাতে চারা গজানোর পরের আগাছানাশকের বিকল্প কম। ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের আগাছা বিজ্ঞানী ড. রদ্রিগো ভেরলে বলছেন, আগাছানাশক-প্রতিরোধী আগাছার কারণে কেউ কেউ চাষপদ্ধতিই নতুন করে ভাবতে বাধ্য হয়েছেন।
পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয়েছে সুইজারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান ইকোরোবোটিক্সের এআরএ স্প্রে যন্ত্র। ক্যামেরা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এটি গাছ ধরে ধরে আগাছা শনাক্ত করে এবং যেখানে আগাছা পায় শুধু সেখানে ২.৪ ইঞ্চি বাই ২.৪ ইঞ্চি জায়গায় স্প্রে করে। একটি ‘সেফটি জোন’ ব্যবস্থায় ফসলের গাছের চারপাশে ফাঁকা জায়গা রাখা হয়; আগাছা ফসলের খুব কাছে থাকলে যন্ত্রটি স্প্রে করে না।
এই সুবিধা দেখে গবেষকেরা পরীক্ষা করেছেন, এত নিখুঁত প্রয়োগে গ্লুফোসিনেটের মতো বাছবিচারহীন আগাছানাশক সাধারণ সারির ফসলে ব্যবহার করা যায় কি না, ফসলের বড় ক্ষতি না করে। বর্তমান লেবেল ও বিধিতে এমন ব্যবহারের অনুমতি নেই, তাই এটি ছিল শুধু ধারণা যাচাইয়ের গবেষণা।
ফল অনেকটাই নির্ভর করেছে মাটিতে আগাম দেওয়া (প্রি-ইমার্জেন্স) আগাছানাশকের শক্ত ভিতের ওপর। যেসব জমিতে আগাম দমন ভালো ছিল, পরে যে কৌশলই নেওয়া হোক, সেখানে ফল ভালো হয়েছে, কারণ তখন লক্ষ্যভিত্তিক স্প্রেকে কেবল অল্প কিছু টিকে যাওয়া আগাছা সামলাতে হয়েছে। শক্ত আগাম দমনের সঙ্গে নিখুঁত স্প্রে মিলিয়ে চারা গজানোর পরের আগাছানাশক ৬৪ থেকে ৮৩ শতাংশ সাশ্রয় হয়েছে। র্যাগউইড, ভেলভেটলিফ ও ঘাসজাতীয় আগাছা দমন হয়েছে, আর আগাছানাশক বা যন্ত্রের সেটিং যা-ই হোক, ফসলের ক্ষতি ছিল সামান্য।
ফসল রক্ষার জন্য সারির ঠিক ভেতরের আগাছা ইচ্ছা করেই স্প্রে করা হয়নি, যা মনে করিয়ে দেয় যে একক প্রযুক্তি নয়, সমন্বিত আগাছা ব্যবস্থাপনা এখনও দরকার। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, ব্যাপক ব্যবহার নির্ভর করবে বিধি পরিবর্তন ও আরও মাঠ যাচাইয়ের ওপর; তবে লক্ষ্যভিত্তিক যন্ত্র বিদ্যমান আগাছানাশকগুলো টিকিয়ে রাখতে এবং কম পরিমাণে ব্যবহার করতে সাহায্য করতে পারে।
ছবি: Amada44 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: CropLife





মন্তব্য
(০)