সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা৩৩°হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৫২%বাতাস ৯ কিমি/ঘবৃষ্টি ০.১ মিমি

কেঁচো বদলে দিল ভাগ্য

ঢাকার দোহার উপজেলার এমদাদুল হক। সিঙ্গাপুরে ছিলেন ১২ বছর। দেশে ফিরে জমানো টাকা দিয়ে শুরু করেন ব্যবসা। এতে সফল হতে পারেননি। তত দিনে জমানো টাকাও শেষ। চলতে হতো ধারদেনা করে। হঠাৎ একদিন

ঢাকার দোহার উপজেলার এমদাদুল হক। সিঙ্গাপুরে ছিলেন ১২ বছর। দেশে ফিরে জমানো টাকা দিয়ে শুরু করেন ব্যবসা। এতে সফল হতে পারেননি। তত দিনে জমানো টাকাও শেষ। চলতে হতো ধারদেনা করে। হঠাৎ একদিন জানতে পারলেন কেঁচো জৈব সার (ভারমিকম্পোস্ট) সম্পর্কে। সেই কেঁচো সার বদলে দিয়েছে তাঁর জীবন।এমদাদুল হকের বাড়ি উপজেলার বানাঘাটা গ্রামের নিকড়া বটতলা এলাকায়। জীবিকার তাগিদে নব্বইয়ের দশকে বিদেশে গিয়েছিলেন। দেশে ফিরে জমানো টাকা দিয়ে শুরু করেন বিদেশি যন্ত্রাংশ আমদানির ব্যবসা। কিন্তু তাতে তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়নি। এমদাদুল বলেন, ব্যবসায় লোকসান হলেও তিনি নতুন উদ্যমে অর্থ লগ্নি করতেন। এভাবে নয় বছরে তাঁর অনেক টাকা লোকসান হয়। এরপর শুরু হলো কষ্টের জীবন। এভাবে চলতে চলতে হঠাৎ একদিন তিনি জানতে পারেন কেঁচো জৈব সার সম্পর্কে। বিষয়টি কী তা জানতে তিনি ঢাকায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে যান। সেখানে পরিচয় হয় একজন কৃষিবিদের সঙ্গে। এরপরের গল্প ঘুরে দাঁড়ানোর। ২০১৪ সালের শুরুতে একটি মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ১০ কেজি ধারণক্ষমতার দুটি চাড়ি (মাটির তৈরি পাত্র) দিয়ে এমদাদুল শুরু করেন কেঁচো সার উৎপাদন। দুটি চাড়িতে ১৪ কেজি গোবর, চার কেজি খড়কুটো ও ২০০ গ্রাম কেঁচো দিয়ে শুরু করেন সার উৎপাদন। দুটি চাড়ি থেকে মোট সার পেয়েছিলেন ১২ কেজি। প্রথম দিকে উৎপাদিত সার কলাবাগানে দিয়ে নিজের রাসায়নিক সারের চাহিদা পূরণ করতেন এমদাদুল। এরপর আস্তে আস্তে কৃষকের কাছে জনপ্রিয় হতে থাকে এ সার। তিনিও বাড়াতে থাকেন সার উৎপাদন। বর্তমানে এমদাদুল প্রতিটি ৭০০ কেজি ধারণক্ষমতার তিনটি হাউসে (সিমেন্ট দিয়ে তৈরি বড় আধার) সার উৎপাদন করছেন। ১৫০০ কেজি গোবর, ৪০০ কেজি কলাগাছের টুকরা ও ২০০ কেজি খড়কুটো দিয়ে জৈব সার উৎপাদনের জন্য রাখা হয়। আর কেঁচো দেওয়া হয়েছে ৬ কেজি। বর্তমানে ১২ কেজির বেশি কেঁচো আছে হাউসে। কেঁচো সার প্রস্তুত হতে সময় লাগে দেড় মাস। নিকড়া বটতলা মোড়ে একটি ছোট দোকান আছে এমদাদুলের। সেখানে তিনি কীটনাশক ও কেঁচো জৈব সার বিক্রি করেন। গ্রামের যে কৃষকেরা এ সার ব্যবহার করে সুফল পেয়েছেন, তাঁরা সবাই তাঁর দোকান থেকে সার নিয়ে যান। অনেকে তাঁর বাড়ি থেকেও নিয়ে যান। গ্রামের সব কৃষক কমবেশি এ সারের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। এমদাদুল হক বলেন, ‘এ সার উৎপাদনে খরচ খুব বেশি না। আর এটা অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব। এ সার আমাকে আশার আলো দেখিয়েছে।’এমদাদুলের নিজের দেড় বিঘা জমি আছে। সেখানে তিনি নরসিংদীর অমৃতসাগর কলার চাষ করেছেন। এ জৈব সার ব্যবহার করায় কলার মান ভালো হয়। ফলনও হয় অনেক বেশি। এমদাদুলের ছোট একটি পেঁপের বাগানও আছে। সেখানেও তিনি ব্যবহার করেন জৈব সার। নিকড়া গ্রামের কৃষক মুজাহার হোসেন বলেন, ‘আমার দেড় বিঘা জমিতে ধান চাষের সময় কেঁচো সার ব্যবহার করছি। এই সার ব্যবহার কইরা সুফল পাইছি। এখন থেকে এই সারই জমিতে দিমু।’উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এমদাদুল উপজেলায় কেঁচো সার উৎপাদনে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। এখন কৃষকের মধ্যে এ সার জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কেউ কৃষি অফিসের সাহায্য চাইলে আমরা সাহায্য করি। যাদের কেঁচোর প্রয়োজন হয়, তাদের কেঁচোও সরবরাহ করা হয়।’

প্রথম আলোসূত্র

জৈব

সম্পর্কিত খবর

মতামত

প্রকল্প শেষে কী থাকে: ইনচাঙ্গা কৃষি-পরিবেশ কেন্দ্রের শিক্ষা নিয়ে সিফেসিহলে কাঙ্গে

সেরিতি ইনস্টিটিউটের কৃষি কর্মসূচি প্রধানের মতে, ডারবানের কাছের কেন্দ্রটি ৬৯৭ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, তবে আসল পরীক্ষা হলো অংশীদারেরা চলে গেলে কৃষক, সমবায় ও বাজার নিজেরা কী চালিয়ে নিতে পারে।

ফুড ফর মজানসি১ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
জৈব

রাসায়নিক সারের সংকটে চুয়াডাঙ্গার কৃষকের ভরসা কেরুর ‘সোনার দানা’ জৈব সার

চিনিকলের প্রেসমাড থেকে তৈরি কেরুর জৈব সারের ৫০ কেজির বস্তা ৯০০ টাকা, যেখানে রাসায়নিক সারের বস্তা কিনতে কৃষকের লাগছে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা।

দৈনিক বাংলা৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

মুরগির বিষ্ঠার সার দেওয়া পেঁয়াজের জমিতে ই. কোলাই বেশি দিন টেকে: গবেষণা

জর্জিয়ায় দুই বছরের মাঠ গবেষণায় দেখা গেছে, মুরগির বিষ্ঠাভিত্তিক সার ও চরম আবহাওয়া পেঁয়াজের জমির মাটিতে ই. কোলাই কত দিন বাঁচবে তা প্রভাবিত করে।

Morning Ag Clips৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)