বিশ্বের শুষ্ক অঞ্চলের বন ও গাছপালা ২০০ কোটির বেশি মানুষের জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় টিকিয়ে রাখে, অথচ জলবায়ু, জীববৈচিত্র্য ও ভূমি নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনায় এগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) শুষ্ক অঞ্চলের বন নিয়ে এক আহ্বান (কল টু অ্যাকশন) প্রকাশ করে এ কথা বলেছে।
রোমে এফএও সদর দপ্তরে চলমান দশম বিশ্ব বন সপ্তাহের অংশ হিসেবে খাদ্য, পুষ্টি ও সহনশীলতায় শুষ্ক বনের ভূমিকা নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে আহ্বানটি প্রকাশ করা হয়। এর পাশাপাশি চলছে এফএওর বনবিষয়ক কমিটির (কোফো) ২৮তম অধিবেশন। ভিডিও বার্তায় এফএওর মহাপরিচালক কু দংইউ বলেন, শুষ্ক অঞ্চলের বন প্রায়ই স্বীকৃতি, নজরদারি ও অর্থায়নে পিছিয়ে থাকে, আর এই অবস্থা বদলাতে হবে।
পানির স্বল্পতাই যে অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য, সেই শুষ্ক অঞ্চল পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় ৪১ শতাংশ জুড়ে আছে এবং বিশ্বের বনভূমির ২৭ শতাংশ এখানেই। এসব বন কাঠ, জ্বালানি কাঠ, পশুখাদ্য, বুনো খাবার ও ভেষজ জোগায়, খরায় মানুষকে সুরক্ষা দেয় এবং সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য সহজলভ্য নিরাপত্তাবেষ্টনী হিসেবে কাজ করে। এফএও বলছে, প্রাণিসম্পদে সহায়তা, মাটি ও পানি রক্ষা এবং ফসল নষ্ট হলে খাদ্য ও আয়ের জোগান দিয়ে এগুলো কৃষিব্যবস্থাকেও টিকিয়ে রাখে।
সংস্থাটির হিসাবে শুষ্ক অঞ্চলের বন বাস্তুতন্ত্রের প্রায় ২৫ শতাংশ ইতিমধ্যে অবক্ষয়ের শিকার। এর প্রধান কারণ কৃষিজমির সম্প্রসারণ, নগরায়ণ ও অটেকসই আহরণের মতো ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তন খরাকে দীর্ঘ করছে, পানির চাপ ও আগুনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এর ধাক্কা সবচেয়ে বেশি পড়ছে ক্ষুদ্র কৃষক, আদিবাসী, পশুপালক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং নারী ও তরুণদের ওপর।
আহ্বানে সরকার, দাতা ও অংশীদারদের প্রতি শুষ্ক বনের টেকসই ব্যবস্থাপনা, পুনরুদ্ধার ও সুশাসন জোরদার করা, এগুলোকে জাতীয় জলবায়ু, জীববৈচিত্র্য ও ভূমি অগ্রাধিকারে যুক্ত করা এবং সংরক্ষণে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রস্তাব করা হয়েছে ড্রাইল্যান্ড ফরেস্ট সাপোর্ট অ্যাক্সিলারেটর নামে এফএও-কেন্দ্রিক, দেশচালিত একটি প্ল্যাটফর্মের, যাতে বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের বাইরে গিয়ে বড় পরিসরে কাজ এগোয়।
এই প্ল্যাটফর্ম দেশগুলোকে জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) ও ভূমি অবক্ষয় নিরপেক্ষতার লক্ষ্যসহ জাতীয় পরিকল্পনায় শুষ্ক বন যুক্ত করতে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন পেতে, নজরদারি জোরদার করতে এবং খাতগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে সাহায্য করবে। আহ্বানে রিও কনভেনশনগুলোকেও শুষ্ক বনকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে, যার মধ্যে আছে মরুকরণ রোধে জাতিসংঘ কনভেনশনের (ইউএনসিসিডি) অধীনে একে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বাস্তুতন্ত্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
ছবি: Geoff Gallice / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: এফএও নিউজরুম





মন্তব্য
(০)