দক্ষিণ আফ্রিকার পশুপালকেরা ২০২৬/২৭ গ্রীষ্মের প্রজনন মৌসুমে ঢুকছেন এল নিনোর আশঙ্কা মাথায় নিয়ে। এল নিনো সাধারণত গ্রীষ্মে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি আর বেশি তাপমাত্রা আনে; চারণভূমি ও পানি কমলে পশুর শরীরের অবস্থা, উর্বরতা এবং আগামী মৌসুমের বাছুর জন্মের হার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
দেশটির কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৫/২৬ গ্রীষ্মে ভালো বৃষ্টিতে বেশির ভাগ গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিপাতের এলাকায় বাঁধের পানি ও মাটির আর্দ্রতা বেড়েছে। তবে মৌসুমি জলবায়ু পূর্বাভাস বলছে, এল নিনো শুরু হয়ে গেছে এবং ২০২৬/২৭ গ্রীষ্মজুড়ে চলবে, অনেক এলাকায় বৃষ্টি কম হবে। বিভাগ সতর্ক করেছে, ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা না নিলে খরা ও তাপের চাপে পশুর মৃত্যু হতে পারে, পানি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আসতে পারে, বাড়তে পারে পোকামাকড় ও রোগ।
রেড মিট ইন্ডাস্ট্রি সার্ভিসেসের (আরএমআইএস) প্রাণিসম্পদ কারিগরি উপদেষ্টা অ্যাশেল মায়েনেতজা (Ashell Maenetja) বলেন, সম্ভব হলে প্রজননের সময়টা প্রাকৃতিক চারণ ও মৌসুমি বৃষ্টির সর্বোচ্চ সময়ের সঙ্গে মেলাতে হবে। তাঁর পরামর্শ, প্রজননের আগে বকনা বাছুরের ওজন পূর্ণবয়স্ক অবস্থার প্রত্যাশিত ওজনের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশে পৌঁছানো চাই, আর মিলনের শুরুতে গাভি ও ষাঁড়ের শারীরিক অবস্থার স্কোর ৩.৫ থাকা ভালো। লক্ষ্য ওজনে পৌঁছালে বকনাকে মূল পালের প্রায় এক মাস আগে প্রজননে দেওয়া যায়।
চারণভূমির মান এলাকাভেদে আলাদা বলে আগে পুষ্টির চাহিদা যাচাই করতে বলেছেন তিনি; প্রয়োজনে প্রোটিন ও শক্তির সম্পূরক খাবার, আর গ্রীষ্মের চারণের সঙ্গে ফসফেট লিক দেওয়া যায়। প্রজননের চার থেকে ছয় সপ্তাহ আগে ইনজেকশনে খনিজ উপাদান এবং প্রায় ৩০ দিন আগে প্রজনন-পূর্ব টিকা দেওয়ার পরামর্শ তাঁর; গর্ভবতী পশু থাকলে টিকার নির্দেশনা সাবধানে মানতে হবে।
ষাঁড়ের প্রজনন সক্ষমতা পশুচিকিৎসক দিয়ে পরীক্ষা করানো, আর নতুন কেনা ষাঁড়কে প্রজননের দুই মাস আগে খামারে আনা উচিত, কারণ শুক্রাণু তৈরিতে প্রায় ছয় সপ্তাহ লাগে। এলাকাভিত্তিক কর্মসূচিতে কৃমি, আঁটালি ও মাইট দমনের কথাও বলেছেন তিনি। কৃষি অর্থনীতিবিদ ওয়ান্ডিলে সিহলোবো (Wandile Sihlobo) বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষের বৃষ্টি মাটির আর্দ্রতা বাড়ালেও মৌসুমের সম্ভাবনা বদলায়নি; তবে ২০১৪-২০১৬ সালের ভয়াবহ খরার সময়ের চেয়ে, যখন ইস্টার্ন কেপের কিছু এলাকায় গবাদিপশু মারা যায়, এবারের শুরুটা ভালো।
প্রতিবেদনটি ফুড ফর মজান্সির জন্য লিখেছেন প্যাট্রিসিয়া টেম্বো।
ছবি: Justinjerez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Food for Mzansi





মন্তব্য
(০)