আফ্রিকার বৃহত্তর হর্ন অঞ্চলের শুষ্ক এলাকায় এল নিনোর বৃষ্টি এলে পশুপালকদের প্রথম সমস্যাগুলো একেবারে বাস্তব: বাজারে যাওয়ার পথ ডুবে যায়, পশু অসুস্থ হয়, পশুচিকিৎসক পৌঁছাতে পারেন না। সিজিআইএআরে প্রকাশিত এক লেখায় আন্তর্জাতিক প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইএলআরআই) গবেষকেরা বলছেন, বিপদ সংকটে রূপ নেওয়ার আগে পদক্ষেপ চালু করতে পারলেই পূর্বাভাস কাজে আসে।
আইএলআরআইয়ের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ কেলভিন শিকুকু (Kelvin Shikuku) বলেন, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা সবচেয়ে কার্যকর হয় যখন তা দ্রুত ক্ষতি ঠেকানোর পদক্ষেপ চালু করে; এ জন্য পূর্বাভাসকে জরুরি সেবা, ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। ভারী বৃষ্টিতে পশুর চলাচলের পথ বন্ধ হয়, রাস্তা ও সেতু ভাঙে, ফসলে পোকা আর রিফট ভ্যালি জ্বরের মতো পশুরোগ বাড়ে, আর এর প্রভাব নদী অববাহিকা, চারণভূমি ও বাণিজ্যপথ ধরে সীমান্ত পেরিয়ে ছড়ায়।
আইএলআরআই দুটি উপায়ের কথা বলছে। সূচকভিত্তিক প্রাণিসম্পদ বিমা (আইবিএলআই) স্বাধীনভাবে মাপা চারণের সূচক দেখে অর্থ দেয়, যাতে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগেই পশুপালক খাবার ও পানি কিনতে পারেন; এই বিমা থাকা পশুপালকদের বাধ্য হয়ে কম দামে পশু বিক্রির সম্ভাবনা ৩৬ শতাংশ কম। গবেষকদের প্রস্তাব, বিমার এই সংকেত দিয়ে আগে থেকে অনুমোদিত ঋণ বা কিস্তি শিথিলের ব্যবস্থাও চালু করা যায়। ইথিওপিয়ায় ইগাডের এল নিনো প্রস্তুতি ফোরাম থেকে এ নিয়ে সদস্য দেশ, বিমা প্রতিষ্ঠান, ইগাডের জলবায়ু কেন্দ্র আইসিপ্যাক ও জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর একটি অনুশীলন গোষ্ঠী গড়ে উঠছে।
দ্বিতীয় উপায় কাজনেট (KAZNET), আইএলআরআইয়ের তৈরি উন্মুক্ত উৎসের একটি প্ল্যাটফর্ম। এতে স্থানীয় অংশগ্রহণকারীরা ফোনে ছোট ছোট পারিশ্রমিকভিত্তিক কাজ করে পশুর বাজার, চারণভূমি ও পানির অবস্থা, পশুর শারীরিক অবস্থা আর পরিবারের পরিস্থিতির তথ্য পাঠান; উপগ্রহের ছবি ও মৌসুমি পূর্বাভাস মাঠের যে চিত্র ধরতে পারে না, এটি সেই ফাঁক পূরণ করে।
গবেষকদের মতে, আগেভাগে পদক্ষেপ শুধু পশু বাঁচায় না; সুস্থ পশু দুধ, পুষ্টি, আয় ও প্রজননের ভিত্তি। কম দামে পশু বিক্রি করতে বাধ্য হলে পাল ছোট হয়ে যায়, আর ঘুরে দাঁড়াতে কয়েক মৌসুম লাগে। কাজটি হয়েছে সিজিআইএআরের ফুড ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড সিকিউরিটি এবং ক্লাইমেট অ্যাকশন বিজ্ঞান কর্মসূচির আওতায়।
ছবি: Jens Klinzing / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)





মন্তব্য
(০)