দিনাজপুরে চলতি আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে। মোট আবাদ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৭৫০ হেক্টরে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন সোমবার বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৭২ হাজার ২৭০ হেক্টর; এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭২০, হাইব্রিডের ২৫ হাজার ৩৫০ এবং স্থানীয় জাতের ৯ হাজার ২০০ হেক্টর। বাড়তি আবাদের মধ্যে উচ্চ ফলনশীল জাত ১ হাজার ও হাইব্রিড ৪৮০ হেক্টর। এ মৌসুমে প্রায় ৮ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
জেলার ১৩ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় লক্ষ্যমাত্রা ছিল দিনাজপুর সদরে ২৫ হাজার ৫২০ হেক্টর; চিরিরবন্দরে ২৪ হাজার ৯০০, বিরলে ২৪ হাজার ৭০০, বীরগঞ্জে ২৪ হাজার ৬৫০ এবং নবাবগঞ্জে ২৪ হাজার ৩৫০ হেক্টর।
উপপরিচালক জানান, মৌসুমের শুরু থেকে অনুকূল আবহাওয়া আর পর্যাপ্ত বৃষ্টিতে ধানখেতে পানির সংকট নেই; বর্ষা শেষ হওয়ায় বন্যার আশঙ্কাও কেটেছে। ২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর কয়েকটি উপজেলার খেত পরিদর্শন করে তিনি বাম্পার ফলনের আশা করছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কার্তিকের মাঝামাঝি থেকে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হবে, পুরো অগ্রহায়ণ চলবে কাটা-মাড়াই।
চিরিরবন্দরের তেতুলিয়া গ্রামের কৃষক নরেন চন্দ্র রায় আড়াই একরে আমন করেছেন, ২ একরে উচ্চ ফলনশীল ও ৫০ শতকে হাইব্রিড। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত খেতে রোগবালাই নেই, ভালো ফলনের আশায় নিজেই পরিচর্যা করছেন। সদর উপজেলার আউলিয়াপুরের কৃষক মো. রফিকুল ইসলামের আশা, উৎপাদিত ধান জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরের চাহিদাও পূরণ করবে।
কৃষি বিভাগের সূত্র জানায়, আগে জেলায় উৎপাদিত ধানের অর্ধেক জেলার চাহিদা মেটাত। এবার বোরো ও আমন দুই মৌসুমেই ভালো ফলনের সম্ভাবনায় অর্ধেকের বেশি চাল অন্য জেলায় পাঠানো যাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
প্রতিবেদনটি বাসসের দিনাজপুর প্রতিনিধির।
ছবি: বাসস
সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)