সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য হাঁসের খামার, বেশির ভাগই স্থানীয় বেকার যুবক ও শ্রমজীবীদের হাতে। উপজেলায় মোট ২৩৩টি খামার থেকে বছরে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ ডিম আসে, যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাইকারদের হাত ঘুরে এই ডিম যাচ্ছে সারা দেশে।
চাপতির হাওর আর কালনী নদীর তীরেই অন্তত ৩০টি ছোট-বড় খামার, প্রতিটিতে হাজার হাজার হাঁস, পালা হয় খোলা জলে চরিয়ে। কচুয়া গ্রামের গৌরাঙ্গ দাস ১৫ বছর ধরে হাঁস পালছেন। এবার তাঁর ১,৭০০ হাঁসের মধ্যে ৬০০টি ডিম দিচ্ছে; ১১ টাকা দরে মাসে ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকার ডিম বিক্রি করেন তিনি। দুই শ্রমিকের মজুরি, খাবার, ওষুধ, সংসার আর সন্তানদের পড়ার খরচ মিটিয়েও লাভ থাকে, বলেন তিনি।
খামারি বাদল দাস, রজত দাস ও সুধীর তালুকদারের ৬০০ হাঁসের মধ্যে ৪৫০টি ডিম দেয়; সব খরচ বাদে মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা থাকে। তাঁদের কথায়, খোলা জলাশয়ে চরাতে পারলে লাভ আরও বাড়ত। গৌরাঙ্গ দাসের মতে, হাওরের খাল-ডোবার ইজারা বাতিল করে উন্মুক্ত রাখলে খামার আরও বাড়বে।
খামারিরা জানান, বর্ষার পাঁচ-ছয় মাস শুকনা জায়গা না থাকায় বাঁশের খুঁটি, প্লাস্টিকের নেট ও জাল দিয়ে পানির ওপর অস্থায়ী খামার বানাতে হয়। হাওরে হাঁস ছাড়তে গেলে জলমহালের ইজারাদারেরা বাধা দেন, তাতে খাবারের খরচ বাড়ে। প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে ভ্যাকসিন ও পরামর্শ তেমন মেলে না বলেও অভিযোগ তাঁদের।
দিরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মিঠুন চন্দ্র দে বলেন, হাঁস পালন আর মাছ চাষে কোনো বিরোধ নেই; বরং হাঁসের বিষ্ঠা মাছের খাবার, একসঙ্গে চাষ করলে দুটোরই উৎপাদন বাড়ে। হাঁস মাছ খায় না, শামুক-ঝিনুক খায়, জানান তিনি। নিবন্ধিত খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের সুনামগঞ্জ সংবাদদাতার।
ছবি: Belayet2014 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)