মৌসুমি বায়ু বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে দিল্লি-এনসিআরে শীতকালীন বায়ুদূষণ বাড়ার আশঙ্কায় স্থায়ী কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে ভারত সরকার। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সভাপতিত্বে বৈঠকে ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, পরিবেশমন্ত্রী মণিন্দর সিরসা ও বায়ুমান ব্যবস্থাপনা কমিশনের (সিএকিউএম) কর্মকর্তারা। ভারতীয় দৈনিক দ্য হিন্দুর বরাতে খবরটি দিয়েছে ঢাকা ট্রিবিউন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের ৫০ শতাংশ কর্মী বাসা থেকে কাজ করবেন, আর দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত যেসব গাড়ি বিএস-সিক্স নির্গমন মান পূরণ করে না, সেগুলোর প্রবেশে বিধিনিষেধ থাকবে। এসব বিধিনিষেধ চলবে ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত; এ সময় অনুমোদিত পার্কিংয়ের ফি দ্বিগুণ হবে, তবে দিল্লি মেট্রোর নিজস্ব পার্কিংয়ে নয়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ (পিইউসিসি) ছাড়া কোনো গাড়িতে জ্বালানি দেওয়া হবে না; স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ৫০০টি জ্বালানি স্টেশনে এ নিয়ম কার্যকর হবে। গত ১২ মাসে এই প্রযুক্তিতে প্রায় ৭ হাজার ৫৫টি বিএস-থ্রি ও মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি শনাক্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, পেট্রলচালিত ১৫ বছর ও ডিজেলচালিত ১০ বছরের পুরোনো গাড়িতেও জ্বালানি দেওয়া হবে না, তবে কবে থেকে তা স্পষ্ট করা হয়নি।
ধুলা তৈরি করে এমন ভাঙা ও বাইরের নির্মাণকাজ ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে, আর ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের নির্মাণ ও ভাঙার কাজ বন্ধ। শিল্পকারখানার দূষণ নজরদারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার চালু হবে; বায়ুমান পর্যবেক্ষণ স্টেশন ৪৭ থেকে বাড়িয়ে ৬০ করা হয়েছে, গঠন করা হয়েছে ৩৩৪টি প্রয়োগকারী দল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১ হাজার ২৭১টি কারখানায় জরিপ চালিয়ে ২ হাজার ২৮৩টি দূষণকারী কারখানা বন্ধ বা সিলগালা করা হয়েছে।
দিল্লিতে প্রতিদিন প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ টন কঠিন বর্জ্য হয়, প্রক্রিয়াজাত হয় ৭ হাজার ৬৪২ টন; অক্টোবরের মধ্যে আরও ৫ হাজার ৯০০ টন প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা তৈরির আশা করা হচ্ছে। এনভায়রনমেন্টাল ডিফেন্স ফান্ডের ভারতবিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা হিশাম মুন্ডোল দ্য হিন্দুকে বলেন, সারা বছর নির্মল বাতাসই লক্ষ্য হওয়া উচিত; পরিবহন, শিল্প, নির্মাণ, বর্জ্য ও ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো নিয়ে ধারাবাহিক ব্যবস্থা এবং পুরো অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা দরকার।
প্রতিবেদনটি ঢাকা ট্রিবিউনের আন্তর্জাতিক ডেস্কের।
ছবি: wili hybrid / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)