কয়েক দশক ধরে মূলত বেশি ফলনের লক্ষ্যে ফসলের জাত উদ্ভাবন ও চাষের ফলে কিছু খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘনত্ব নিঃশব্দে কমে গেছে। এমন দাবি করেছে উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রতিষ্ঠান ডিপ সায়েন্স ভেঞ্চার্স (ডিএসভি) তাদের নতুন প্রতিবেদন 'হলো হারভেস্টস'-এ। প্রতিবেদন অনুযায়ী দানাশস্য ও সবজিতে কয়েকটি পুষ্টি উপাদান মোটামুটি ২০ থেকে ৫০ শতাংশ কমার তথ্য পাওয়া গেছে, আর এই ধারা চললে অণুপুষ্টির ঘাটতি বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনটি উৎপাদনের বিপুল সাফল্যও তুলে ধরেছে: ১৯৬০-এর দশক থেকে হেক্টরপ্রতি দানাশস্যের ফলন ২১৫ শতাংশ বেড়েছে, উন্নয়নশীল বিশ্বে অপুষ্টি ৩৫ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশে নেমেছে। তবু ২০০ কোটির বেশি মানুষের অন্তত একটি অণুপুষ্টির ক্লিনিক্যাল ঘাটতি রয়েছে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ২০২৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৬০-এর দশক থেকে ছাড়া রুটির গমের জাতগুলোর তিন ভাগের এক ভাগেরও কম দস্তার (জিংক) সুপারিশকৃত মাত্রায় পৌঁছায়।
এত দিন বেশি খাওয়ায় সমস্যাটা ঢাকা পড়েছিল: ১৯৬১ সালের পর বিশ্বে ক্যালরির সরবরাহ ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। ডিএসভির মতে, এই সুরক্ষা এখন দুর্বল হচ্ছে। তাদের হিসাবে, শতাব্দীর মাঝামাঝি বাতাসে বাড়তি কার্বন ডাই-অক্সাইডে গমের প্রোটিন ১২.৭ শতাংশ আর দস্তা ৩৬.৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে, আর মাটির অবক্ষয় গাছের পুষ্টি গ্রহণ সীমিত করছে। প্রতিবেদন ওজন কমানোর জিএলপি-১ ওষুধের কথাও বলেছে: ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে ১০ কোটির বেশি মানুষ এগুলো নিতে পারেন, আর এতে খাবার গ্রহণ ১৬-৩৯ শতাংশ কমতে পারে। যুক্তরাজ্যের একটি অনুমানে, ১৫ শতাংশ মানুষ ওষুধটি নিলে এবং ফসলের পুষ্টি ১৫ শতাংশ কমলে কর্মক্ষম বয়সের প্রায় ৫০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক অণুপুষ্টির প্রয়োজনীয় মাত্রার নিচে নেমে যেতে পারেন; সবচেয়ে ঝুঁকিতে সেলেনিয়াম, পটাশিয়াম ও আয়রন।
ডিএসভির জলবায়ু বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহযোগী উইল সামার্স বলেন, ষাট বছর ধরে খাদ্য নিরাপত্তা মাপা হয়েছে ক্যালরি আর হেক্টরপ্রতি টনে, সেই মাপে সাফল্য অনেক; কিন্তু খাবারের ভেতরটা নিঃশব্দে ফাঁপা হয়ে গেছে।
মানুষকে বেশি ফল, সবজি ও আঁশ খাওয়ানোই কি স্বাস্থ্যের জন্য বেশি কাজের, এগনেভিগেটরের এই প্রশ্নে ডিএসভির একজন মুখপাত্র বলেন, দুটোই দরকার। পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল কেউ না খেলে লাভ নেই, আবার ফসলের পুষ্টি কমলে ঠিকঠাক খেয়েও সুফল কম মেলে।
প্রতিবেদনের মতে, এই অবনতি অনিবার্য নয়। জাত উদ্ভাবন, মাটির স্বাস্থ্য, অণুপুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং গাছের ভেতরে পুষ্টি গ্রহণ ও বণ্টন উন্নত করে ফলন না কমিয়েই পুষ্টিমান বাড়ানো সম্ভব। মার্ক লিওনার্ড ট্রাস্টের সিয়ান ফার্গুসন বলেন, মাটির স্বাস্থ্য ফেরানো এমন অল্প কয়েকটি উপায়ের একটি, যা একসঙ্গে পুষ্টি, ফলন ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ায়, তবে রূপান্তরের প্রথম কয়েক বছর কৃষকের সহায়তা দরকার। প্রতিবেদন খাদ্য নিরাপত্তার হিসাবে ফলনের পাশাপাশি পুষ্টির ঘনত্ব মাপার, জাত উদ্ভাবন ও কৃষিনীতিতে পুষ্টিমান যুক্ত করার এবং যুক্তরাজ্যের খাদ্য উপাদানের তথ্যভান্ডার হালনাগাদের আহ্বান জানিয়েছে; ফল ও সবজির তথ্য সেখানে সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গভাবে সংশোধন হয়েছিল ১৯৯১ সালে।
সংখ্যা ও অনুমানগুলো প্রতিবেদনটির নিজস্ব; এখানে আলাদাভাবে যাচাই করা হয়নি।
ছবি: Joe Mabel / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)