যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসের ধানচাষিরা টানা চতুর্থ বছর গরম আবহাওয়ায় ফসল কাটছেন, এতে ধানের মান ও চালের মিলিং ফলন কমছে। আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের ধান বিশেষজ্ঞ জ্যারড হার্ডকে এ কথা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ধানের প্রায় ৪৫ থেকে ৪৯ শতাংশ উৎপাদন হয় আরকানসাসে, বেশির ভাগই রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে লম্বা ও মাঝারি দানার জাত।
হার্ডকের ভাষ্য, ফসল কাটার সময় দীর্ঘ গরমে ধান মাঠেই স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। কাটার আগেই অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়া দানা চালকলে ফাটে ও ভাঙে, ফলে মিলিং ফলন আর কৃষকের আয় দুটোই কমে।
সমস্যাটা কয়েক বছর ধরে বাড়ছে। ২০২২ ও ২০২৩ সাল মোটামুটি ভালো ছিল, কিন্তু ২০২৪ সালে আগাম বপনে আগাম কাটা শুরু হয়, অনেক জমি কাটার আগেই দ্রুত শুকিয়ে যায়, আর পরে ঘূর্ণিঝড়জনিত আবহাওয়ায় মাঠে থাকা ধান নষ্ট হয়; সে বছর মিলিং ফলন ছিল সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে কমগুলোর একটি। ২০২৫ সালে অবস্থা কিছুটা ভালো হলেও সেপ্টেম্বরের গরম মান সীমিত রেখেছিল। ২০২৬ সালে রেকর্ড গরম ফিরে আসে এবং ফসল কাটার বেশির ভাগ সময় থাকে; দিনে প্রায়ই তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়ায়, আর উষ্ণ রাতে ফসল তাপের ধকল থেকে সেরে ওঠার সুযোগ পায়নি।
কৃষিবিদেরা বলছেন, আরকানসাসে আগেও এমন গরম পড়েছে, যেমন ১৯৮০ সালে। পার্থক্য হলো, এখন কৃষকেরা আগে বোনেন, আগে কাটেন; ফলে পাকা ধান গ্রীষ্মের শেষের গরমে বেশি সময় থাকে।
একটি সম্ভাব্য সমাধান দেরিতে বপন। আগে মার্চের শেষে বুনলে সবচেয়ে বেশি ফলন মিলত, কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে কিছু এলাকায় এপ্রিলের শুরু থেকে মাঝামাঝি বুনলেও সমান বা বেশি ফলন হয়; উত্তর-পূর্ব আরকানসাসের পরীক্ষায় এপ্রিলের মাঝামাঝি বপনে ভালো ফলন এসেছে। বপনের সময় বেশি দিনে ছড়িয়ে দিলে ফসল কাটার সময়ের গরমে ক্ষতির ঝুঁকি কমতে পারে। হার্ডকে বলেন, আদর্শ হলো বপনের সময় ছড়িয়ে দিয়ে একটু দেরির দিকে ঝোঁকা, তবে বসন্তের কঠিন আবহাওয়ায় বপনের সুযোগ পেলে তা ছেড়ে দেওয়া কঠিন।
অন্য গরম অঞ্চলের ধানচাষিদের জন্যও আরকানসাসের অভিজ্ঞতা দেখায়, ফসল কাটার সময় গরম বাড়তে থাকলে বহু বছর আগে ঠিক করা বপনের সময়ও বদলাতে হতে পারে।
ছবি: Arkansas Agricultural Experiment Station / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)