কুমিল্লায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা কেজিতে ১৩ থেকে ৩৩ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন, বিশেষ করে ইউরিয়া ও টিএসপিতে।
সরকারি দাম ইউরিয়া ও টিএসপি কেজি ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ ও এমওপি ২০ টাকা। কিন্তু লালমাই, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, চৌদ্দগ্রাম, চান্দিনা ও বুড়িচংয়ের বাজারে ইউরিয়া বিক্রি হচ্ছে ৩৩ থেকে ৪০ টাকা, টিএসপি ৫৫ থেকে ৬০, ডিএপি ৩৫ ও এমওপি ৩৩ টাকায়।
লালমাইয়ের কৃষক কামরুল হাসান ৩০ শতক জমির ধানের জন্য সার কিনতে বাগমারা বাজারে গিয়ে দেখেন চিকন ইউরিয়া কেজি ৪০ টাকা, মোটা ইউরিয়া ৩৮, টিএসপি ৬০, ডিএপি ৩৫ ও এমওপি ৩৩ টাকা; দুই-তিনটি দোকানে একই দাম। উপায় না পেয়ে তিনি ৫ হাজার ২০০ টাকার সার ও ওষুধ কেনেন। লাকসামের খিলা বাজারের খুচরা বিক্রেতা হৃদয় হাসানের দাবি, তাঁদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলার বলেন, এবার আগের মৌসুমের চেয়ে সার কিছুটা কম এসেছে, তাই দু-এক টাকা বেশিতে বিক্রি করছেন; বর্ষায় সার গলে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি আছে, আর মোটা ইউরিয়ার চেয়ে চিকন ইউরিয়ার চাহিদা বেশি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কুমিল্লায় ইউরিয়ার চাহিদা ৪,৮৮০ টন, মজুত ৪,৩৫৪ টন; টিএসপির চাহিদা ১,৩৯১ টন, মজুত ১,৬৭৮ টন; ডিএপির চাহিদা ১,৭৯২ টন, মজুত ১,৯৩৯ টন; এমওপির চাহিদা ১,৭০৫ টন, মজুত ১,৯৬৪ টন। আগের তুলনায় ইউরিয়া ও ডিএপির মজুত কমেছে, টিএসপি ও এমওপির বেড়েছে।
লাকসাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আল-আমিন বলেন, তাঁর উপজেলায় সারের সংকট নেই; নিয়মিত বাজার পরিদর্শনে কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে। লালমাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান জানান, অভিযোগ না পেলেও তাঁরা বাজার পরিদর্শন করছেন, বেশি দামে বিক্রি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদন: মো. দুলাল মিয়া, কুমিল্লা।
সূত্র: দেশ রূপান্তর




মন্তব্য
(০)