বয়স ৬০ পেরোলেই কাজের ইচ্ছা, আনন্দ, সম্পর্ক বা নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ফুরিয়ে যায়, এমন ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে কলকাতার একটি নতুন গবেষণা। ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের আগে মানসিক স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা অঞ্জলি প্রকাশ করেছে কালচার্স অব এজিং নামের প্রতিবেদনটি, জানিয়েছে এই সময়।
কলকাতার ৬০ থেকে ৯০ বছর বয়সী বিভিন্ন জাতি, শ্রেণি, ধর্ম ও পেশার ৫৫ জন নারীর সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদনটি তৈরি। গবেষণার পরিকল্পনা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও স্কুল অব উইমেন্স স্টাডিজের সাবেক পরিচালক পারমিতা চক্রবর্তীর। দেখা গেছে, অনেক প্রবীণ নারীর কাছে কাজ শুধু আয়ের পথ নয়, আত্মপরিচয় ও আত্মবিশ্বাসের জায়গাও।
একসময় সার্কাসে জিমন্যাস্ট হিসেবে হাততালি পাওয়া ঝর্ণা শিকদার এখন সংসারের কাজে দিন কাটান; সন্ধ্যা নামলে গভীর বিষণ্নতা তাঁকে ঘিরে ধরে বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে থিয়েটার পরিচালক অনসূয়া সেন কোভিডের পর অনলাইনে ক্লাস নিতে নতুন করে প্রযুক্তি শিখছেন, মঞ্চ ছাড়তে চান না।
প্রতিবেদনটি বয়স বাড়লে নারীর ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা সম্পর্কের প্রয়োজন থাকে না, এই ধারণাকেও চ্যালেঞ্জ করেছে; কয়েকজন অংশগ্রহণকারী নতুন সম্পর্ক নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারের সুরক্ষা কখনো কখনো অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণে পরিণত হয়; সক্ষম প্রবীণদের নিজের সিদ্ধান্ত নিতে না দিয়ে শিশুর মতো দেখলে তাঁদের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিবেশী, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও বন্ধুত্ব অনেকের জীবনে বড় সহায় হয়ে উঠছে।
পারমিতা চক্রবর্তী বলেন, বয়সকে সমস্যা হিসেবে না দেখে প্রবীণ নারীদের নিজেদের কথা বলার সুযোগ দিতে হবে এবং তাঁদের জীবন, ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিতে হবে। অঞ্জলির প্রতিষ্ঠাতা রত্নাবলী রায়ের মতে, বার্ধক্যের আলোচনায় অসুখ ও চিকিৎসাই বেশি গুরুত্ব পায়, অথচ স্বাধীনতা, অবসর, সামাজিক সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতাও সমান জরুরি।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন এই সময়ের অনির্বাণ ঘোষ ও রহিত পরামানিক।
সূত্র: এই সময়



মন্তব্য
(০)