কোকো গাছের সবচেয়ে ক্ষতিকর রোগ কালো পড (ব্ল্যাক পড) প্রতিরোধে জিন সম্পাদিত গাছ বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি জিন সম্পাদনা কোম্পানি BetterSeeds (বেটারসিডস)-এর মার্কিন প্রতিষ্ঠান AgroNetica (এগ্রোনেটিকা)। এল নিনোর কারণে পশ্চিম আফ্রিকায় আগামী মৌসুমের ফলন হুমকিতে থাকার সময় এ তথ্য দিয়েছেন প্রধান নির্বাহী Ido Margalit (ইদো মারগালিত)।
কোম্পানিটির হিসাবে, ফাইটোফথোরা ছত্রাকজাতীয় জীবাণুর কারণে হওয়া কালো পড রোগে বিশ্বের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কোকো নষ্ট হয়। পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের গবেষকদের নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষায় এগ্রোনেটিকার জিন সম্পাদিত কোকো, যাতে বাইরের কোনো ডিএনএ নেই, সংক্রমণের পর ৪২ শতাংশ কম ক্ষতির শিকার হয়েছে।
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বেটারসিডস দ্বিতীয় প্রজন্মের ক্রিসপার প্রযুক্তি তৈরি করেছে, যা গাছের নির্দিষ্ট জিন নিষ্ক্রিয় করে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য আনে। রোগ প্রতিরোধ ছাড়াও এগ্রোনেটিকা কোকোতে ভারী ধাতু শোষণ কমানো এবং কিছু জাতে ক্যাফেইন বাদ দেওয়ার বৈশিষ্ট্য আনার পরিকল্পনা করছে; আরেকটি সহপ্রতিষ্ঠান কাজ করছে অ্যালার্জিমুক্ত চিনাবাদাম নিয়ে।
মারগালিত জানান, বিশ্বের ৭০ শতাংশ কোকো আসে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে, আর আগামী মৌসুমে সেখানে ফলন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমার পূর্বাভাস রয়েছে। দুই বছর আগের ঘাটতির ধাক্কা থেকে চকলেট শিল্প এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ায়নি।
তাঁর তথ্যমতে, চারটি বড় চকলেট কোম্পানি এখন আগ্রহী। শুরুতে তারা প্রযুক্তি কাজ করে কি না তার প্রমাণ চেয়েছিল এবং ইউরোপের নিয়ম নিয়ে অনিশ্চিত ছিল। এখন কোম্পানির হাতে চারা আছে, যা থেকে লাখ লাখ গাছ উৎপাদন সম্ভব। মারগালিত বলেন, প্রায় তিন মাস আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কানাডা, ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো নিয়মের পক্ষে ভোট দিয়েছে: বাইরের জিন না ঢুকিয়ে সম্পাদিত ফসল কয়েক সপ্তাহে অনুমোদন পায়, লেবেল লাগে না, প্রচলিত প্রজননের জাত হিসেবেই গণ্য হয়।
বেটারসিডস ও এর সহপ্রতিষ্ঠানগুলো এ পর্যন্ত ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার তহবিল পেয়েছে। পরের দফায় অন্তত প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার তোলার লক্ষ্য, যা দিয়ে প্রথম আয়ের পর্যায়ে পৌঁছানো যাবে; ২০২৮ সালের মধ্যে আয় দিয়েই কোম্পানি চালানোর আশা মারগালিতের। প্রযুক্তিটি অন্য ফসল ও অঞ্চলেও নেওয়ার পরিকল্পনা আছে।
প্রতিবেদনটি এজিনেভিগেটরের জন্য লিখেছেন রায়ান ডেইলি।
ছবি: Scot Nelson / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)