কিছুদিন ইলিশ কম ধরা পড়ার পর অক্টোবরের শুরু থেকে কক্সবাজার উপকূলে বিপুল ইলিশ ধরা পড়ছে। কিন্তু বাজারে তার প্রভাব নেই: বড় ও মাঝারি ইলিশ ক্রেতার নাগালের বাইরে, ছোট ইলিশও কেজিতে ৮০০ টাকার ওপরে। জেলার ছোট-বড় ৬ হাজার ট্রলারে কাজ করেন প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার জেলে, আর মা ইলিশ রক্ষার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় সংসার কীভাবে চলবে, তা নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায়। প্রথম আলোর কক্সবাজার প্রতিনিধি আব্দুল কুদ্দুস এ খবর দিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে শহরের নুনিয়াছটা ফিশারিঘাটের সরকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে অন্তত ৪৫টি ট্রলার ভিড়েছিল, কোনোটিতে তিন শ, কোনোটিতে আড়াই হাজারের বেশি ইলিশ। ‘এফবি সোহেল’ ট্রলারে ধরা পড়ে ২ হাজার ৪০০টি; মাঝি আবদুল মুনাফ ৫০ লাখ টাকা চাইলে দর-কষাকষির পর তিন ব্যবসায়ী মিলে ৪৪ লাখ টাকায় কিনে নেন, কেজিপ্রতি প্রায় ২ হাজার টাকা। ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানান, এই ইলিশ ঢাকায় বিক্রি হবে ২,১০০ থেকে ২,২০০ টাকা কেজিতে।
মাঝি আবদুল মুনাফ জানান, উপকূল থেকে ৫০-৬০ কিলোমিটার দূরে পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে জাল ফেললেই ইলিশ উঠছে, মাছ এখন ঝাঁক বেঁধে চলছে। খুরুশকুলের আরেকটি ট্রলারের জেলেরা ১ হাজার ১০০ ইলিশ বেচে পেয়েছেন ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
ফিশারিঘাটে পাইকারিতে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ২,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকা, ৮০০-৯০০ গ্রামের ১,৬০০ থেকে ১,৮০০ টাকা, ৫০০-৭০০ গ্রামের ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টাকা আর ৩৫০-৪০০ গ্রামের ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেশির ভাগ ইলিশের ওজন ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম, আর জেলেরা জানান মাঝারি ইলিশের বেশির ভাগের পেটে ডিম আছে। কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীনের হিসাবে, উপকূলে ধরা ইলিশের ৯০ শতাংশই যায় ঢাকায়।
জেলে ও ট্রলারমালিকেরাও হতাশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগে গত দুই মাস তাঁরা সাগরে নামতে পারেননি; সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ১০-১২ দিন ইলিশ মিলেছিল, তারপর ২ অক্টোবর থেকে আবার উঠছে, অথচ নিষেধাজ্ঞায় আর মাত্র দুই দিন ধরা যাবে। কক্সবাজার ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, পাঁচ থেকে সাত দিনের এক ট্রিপে খরচ ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা, অথচ মাছ বেচে মেলে ২ থেকে ৩ লাখ; লোকসানে অনেক মালিক ট্রলার বেচে দিচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞার সময় বিদেশি জাহাজ যেন ইলিশ ধরে নিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ছবি: Gouriband / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)