প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন-ঘেঁষা উপকূলে চাষিদের একজোট করে বিকল্প কৃষিতে অভ্যস্ত করার যে যাত্রা এক দশক আগে শুরু হয়েছিল, তার সাফল্যের নির্যাস মিলল নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ এডুকেশনাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সেমিনারে। পিএইচডি ও স্নাতকোত্তরের গবেষক, শিক্ষার্থী ও কৃষিবিজ্ঞানীরা চাষিদের সঙ্গে মাঠে থেকে হাতেকলমে নতুন পদ্ধতি শিখিয়েছেন; ইনস্টিটিউটের উপাচার্য ও সম্পাদক স্বামী আত্মপ্রিয়ানন্দ নারী চাষিদের স্বনির্ভরতায় জোর দেওয়ার কথা বলেন এবং জানান, মিশনে কৃষিবিজ্ঞানে ছাত্রীর সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে।
সেমিনারে ছিলেন কলকাতায় অস্ট্রেলিয়ার কনসাল জেনারেল বার্নার্ড লিঞ্চ, অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চের (ACIAR) আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক প্রতিভা সিংহ, CSIRO-র প্রকল্প ইনচার্জ মহম্মদ মইনুদ্দিন, বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা নির্দেশক গৌতম সাহা ও কৃষিবিজ্ঞানী কৌশিক ব্রহ্মচারীসহ শিক্ষক-গবেষকেরা। কৃষিকে মাধ্যম করে উপকূলজুড়ে নারীদের স্বনির্ভরতা ছিল আলোচনার মূল সুর।
আয়লা ও আমপানের পাশাপাশি বাঁধ ভেঙে নোনা জল ঢুকে বর্ষায় বারবার চাষের জমি নষ্ট হওয়ায় উপকূলের বহু দ্বীপ ও গ্রামের পুরুষেরা আয়ের খোঁজে পরিযায়ী শ্রমিক হয়েছেন; চাষের ভার পড়েছে নারীদের হাতে। প্রথম লড়াই ছিল মাটির তলার ফসল কীভাবে মাটির ওপরে খড়ের মধ্যে ফলানো যায়; সঙ্গে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ও নিকাশির মাধ্যমে নোনা এলাকায় সেচের সাফল্য তথ্য ও ছবিতে তুলে ধরা হয়।
সুন্দরবনের জটিরামপুরের চাষি দীনেশ মণ্ডল বলেন, আয়লা-আমপান ছাড়াও নানা সময়ে নোনা জলে চাষের ক্ষতি হয়; খড় ব্যবহার করে মাটির ওপরে জিরো টিলেজে তাঁরা এখন ফসল ফলিয়ে বাজারজাত করছেন। চাষি পিনাকী মণ্ডলের কথায়, CSIRO, নরেন্দ্রপুর মিশন, ক্যানিংয়ের লবণাক্ত মৃত্তিকা গবেষণা সংস্থা ও বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী-গবেষকেরা দশ বছর ধরে তাঁদের সঙ্গে থেকে চাষ শেখাচ্ছেন, অনেক দ্বীপে ফের আবাদ হচ্ছে।
CSIRO-র মহম্মদ মইনুদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে এমন প্রতিকূল অবস্থায় নারীদের চাষে যুক্ত করা যায়নি, এখানে তা সম্ভব হয়েছে এবং সাফল্যও মিলেছে; অস্ট্রেলিয়ার সরকারি কৃষি বিভাগের অভিভাবকত্বেই কর্মসূচিটি এত দিন চলেছে। গত বছর মার্চে কলকাতার তৎকালীন কনসাল জেনারেল হিউ বয়লান সুন্দরবনে চাষিদের সঙ্গে আলু তুলতে মাঠে নেমেছিলেন; বর্তমান কনসাল জেনারেল লিঞ্চের কথায়, তিনি বিজ্ঞানী নন, তবে একটি যুগান্তকারী কাজ হয়েছে তা বুঝতে পারছেন।
আনন্দবাজার পত্রিকার বিতান ভট্টাচার্যের প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: আনন্দবাজার




মন্তব্য
(০)