জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা মানুষ, এলাকা ও অবকাঠামো চিহ্নিত করতে এবং সীমিত অর্থ কোথায় আগে খরচ করলে বেশি সুফল মিলবে, তা ঠিক করতে সরকারকে সাহায্যের লক্ষ্যে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর উদ্যোগ 'ক্লাইমেট অ্যাকশন কো-পাইলট' জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থা ইউএনএফসিসিসির 'এআই ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬'-এর চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছে। উদ্যোগটি দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ফারিয়া ইসলাম সারা ও হাবিবুর রহমান হাবিবের।
দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদক দুলাল হোসেন ইউএনএফসিসিসির তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন, চূড়ান্ত তালিকায় আছে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, তানজানিয়া ও মালির পাঁচটি উদ্ভাবন। কম্বোডিয়ার নমপেনে এআই ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামে বুধবার (১৪ অক্টোবর) এর একটিকে বিজয়ী ঘোষণার কথা, আর বিজয়ী উদ্ভাবন দেখানো হবে তুরস্কে কপ-৩১ সম্মেলনে। আয়োজকদের তথ্যে, ২০২৫ সালে এ পুরস্কারের জন্য ১১০ দেশ থেকে ৬০০টি উদ্ভাবনী উদ্যোগ জমা পড়েছিল।
কীভাবে কাজ করবে এই কো-পাইলট? প্রথমে স্যাটেলাইট ছবি, ভৌগোলিক মানচিত্র, বৃষ্টিপাত, বন্যার ইতিহাস, নদীর অবস্থান, জনসংখ্যা এবং সড়ক, স্কুল ও হাসপাতালের অবস্থানের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এআই দিয়ে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝা হবে কোন এলাকায় বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেশি; যেমন উপকূলের কোন এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বেশি অথচ আশ্রয়কেন্দ্র বা নিরাপদ সড়কের ঘাটতি আছে। তবে নির্দিষ্ট বিপদের পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা প্রকল্পের প্রকৃত মডেলের ওপর নির্ভর করবে।
এরপর বাঁধ মেরামত, উঁচু সড়ক, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার মধ্যে কোনটি বেশি জরুরি ও ব্যয়সাশ্রয়ী, তা তুলনার তথ্য দেবে ব্যবস্থাটি। ফল আসবে মানচিত্র, ঝুঁকির তালিকা বা প্রতিবেদন আকারে, যাতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা ঠিক করতে পারে সীমিত অর্থ কোথায়, কীভাবে খরচ হবে।
বাংলাদেশে জলবায়ু ঝুঁকির ধরন এলাকাভেদে আলাদা: উপকূলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততা, নদীতীরে ভাঙনে বসতভিটা ও কৃষিজমি হারানো, কোথাও অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা। তাই জাতীয় পর্যায়ের একটি সাধারণ পরিকল্পনা সব এলাকায় সমান কাজ নাও করতে পারে। প্রতিবেদনে অবশ্য মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, এআইয়ের বিশ্লেষণই চূড়ান্ত নয়; মাঠপর্যায়ের যাচাই, স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা, তথ্যের নির্ভুলতা, ব্যয়ের হিসাব ও বিশেষজ্ঞ মূল্যায়নও লাগবে।
ইউএনএফসিসিসির নির্বাহী সচিব সাইমন স্টিয়েল বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জলবায়ু কার্যক্রমকে দ্রুততর করতে পারে, তবে ব্যবধান বাড়ানোর বদলে এআইকে তা কমাতে সাহায্য করতে হবে। পুরস্কারটির উদ্দেশ্য স্বল্পোন্নত দেশ ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রে জলবায়ু মোকাবিলার এআই উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি ও সম্প্রসারণের সুযোগ দেওয়া; অংশীদার ইউএনএফসিসিসির টেকনোলজি এক্সিকিউটিভ কমিটি, ক্লাইমেট টেকনোলজি সেন্টার অ্যান্ড নেটওয়ার্ক এবং কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি।
ছবি: NASA, Jesse Allen / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)