যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কৃষিরাসায়নিক কোম্পানি এফএমসি চীনে গমের জন্য মাইপেং নামে ৩৬ শতাংশ বিক্সলোজোনের সাসপেনশন কনসেন্ট্রেট বাজারে এনেছে। এটি বীজ গজানোর আগে মাটিতে প্রয়োগের আগাছানাশক, লক্ষ্য সেই ঘাসজাতীয় ও চওড়া পাতার আগাছা, যেগুলো কৃষকদের বহুদিনের ভরসা গজানোর পরের স্প্রেতে আর মরছে না। খবরটি দিয়েছে অ্যাগ্রোপেজেস।
এফএমসির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী চীনের কিছু অঞ্চলে ইতালিয়ান রাইগ্রাস মেসোসালফিউরন-মিথাইলের বিরুদ্ধে ১১ থেকে ২৫ গুণ এবং পিনোক্সাডেনের বিরুদ্ধে ১০.৫ থেকে ১১.৫ গুণ প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। শর্টঅন ফক্সটেইলের প্রতিরোধ একই দুই আগাছানাশকের বিরুদ্ধে যথাক্রমে ১১ থেকে ১৭ গুণ ও ১০ থেকে ১৪ গুণ। এএলএস ও অ্যাসিকেস গোত্রের এই আগাছানাশকই এক দশকের বেশি সময় ধরে চীনের গমখেতে প্রধান ভরসা, আর প্রতিরোধ বাড়তে থাকায় এগুলোর কার্যকারিতা আর নির্ভরযোগ্য থাকছে না।
বিক্সলোজোন এইচআরএসি গ্রুপ ১৩-এর আগাছানাশক: এটি ডিএক্সএস নামের একটি এনজাইম আটকে দিয়ে ক্যারোটিনয়েড তৈরি বন্ধ করে, ফলে সংবেদনশীল আগাছা সাদা হয়ে যায়, আলো থেকে সুরক্ষা হারায় এবং বৃদ্ধি থেমে যায়। শিকড় ও চারা এটি শোষণ করে, আর প্রস্বেদনের প্রবাহে তা গাছজুড়ে ছড়ায়। এর কাজের জায়গা এএলএস বা অ্যাসিকেস থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, তাই পারস্পরিক প্রতিরোধ নেই; এই গ্রুপে অন্য সক্রিয় উপাদান কেবল ক্লোমাজোন। কোম্পানির দাবি, মাইপেং জাপানিজ ফক্সটেইল, শর্টঅন ফক্সটেইল, ইতালিয়ান রাইগ্রাস এবং চিকউইড ও শেফার্ডস পার্সের মতো চওড়া পাতার আগাছা দমন করে।
সক্রিয় উপাদানটি প্রথম নিবন্ধন পায় অস্ট্রেলিয়ায়, ২০২০ সালের এপ্রিলে, ওভারওয়াচ নামে, বাজারে আসে ২০২১ মৌসুমে। চীনে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে শীতকালীন গমের চওড়া পাতার আগাছা দমনে ফেংচু নামে নিবন্ধিত হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আইসোফ্লেক্স নামে এটি অনুমোদন দেয়, যা ২০২০ সালের পর ইইউতে অনুমোদিত প্রথম নতুন রাসায়নিক আগাছানাশক উপাদান; এর তৈরি পণ্য বাজারে আসার কথা ২০২৭ সালে।
মাইপেং দিয়ে এফএমসি একই অণুকে চীনে নতুন করে সাজাচ্ছে: চওড়া পাতার আগাছার সহায়ক পণ্য থেকে প্রতিরোধী ঘাসজাতীয় আগাছার বিরুদ্ধে মাটিতে প্রয়োগের মূল সমাধান হিসেবে, সমন্বিত আগাছা ব্যবস্থাপনার অংশ করে। কার্যকারিতা ও আগাছার তালিকা নিয়ে দাবিগুলো কোম্পানির।
ছবি: Keisotyo / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: AgroPages





মন্তব্য
(০)