প্রাক-প্রাথমিকের শিশুদের নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল সুমনা করিম। সমকালে প্রকাশিত কলামে তিনি লিখেছেন, ছোট শিশুদের মধ্যে বড়দের মতো দ্বিধা বা সংকোচ নেই; তারা বিনা দ্বিধায় প্রশ্ন করে, ভালো লাগা বা না লাগা লুকোয় না, আর বড়রা যা করেন তা দ্রুত অনুকরণ করে। লেখায় প্রকাশিত মত লেখকের নিজস্ব।
মনোবিজ্ঞানের বরাতে তিনি বলেন, মানসিক, সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশের জন্য জীবনের প্রথম কয়েক বছর ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ; এ সময়ের পরিবেশ, বড়দের আচরণ, নিরাপত্তাবোধ আর শেখার অভিজ্ঞতা শিশুর ভবিষ্যৎ চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব গড়ে দেয়। শিশুরা দিনের বড় অংশ স্কুলে কাটায় বলে পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষকের ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ; শিক্ষক কীভাবে কথা বলেন, ভুলের পর কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান, অন্যকে কীভাবে সম্মান করেন, সবই শিশু মন দিয়ে দেখে।
লেখকের উদ্বেগ, সমাজে এখনো কঠোরতাকে শাসনের স্বাভাবিক পদ্ধতি ধরা হয়: কথা না শুনলে বা পড়া না পারলে বকা, সবার সামনে অপমান, ভয় দেখানো, এমনকি গায়ে হাত তোলাও বিরল নয়। শিক্ষক বা অভিভাবক যদি নিরাপদ আশ্রয়ের বদলে ভয়ের মানুষ হয়ে ওঠেন, শিশু ভুল করতে, প্রশ্ন করতে বা নিজের কথা বলতে ভয় পাবে, কমে যাবে শেখার প্রধান শক্তি কৌতূহলও।
তাঁর অভিজ্ঞতা বলছে, এই বয়সে কঠোর নিয়মানুবর্তিতার চেয়ে ধৈর্য ও আন্তরিকতা বেশি দরকার; শিক্ষককে কখনো বন্ধুর মতো, কখনো অভিভাবকের মতো শিশুর কাছে যেতে হয়। ভুল করলেও অপমান করা হবে না, এটা বুঝলে শিশু নির্ভয়ে নিজেকে প্রকাশ করতে শেখে।
ভালো ফলের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে দেওয়ার চেয়ে শিশুকে সংবেদনশীল, আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি। শ্রেণিকক্ষে একটি স্নেহের দৃষ্টি, ভুলের পর আরেকটি সুযোগ বা মন দিয়ে শোনা একটি প্রশ্নের মূল্য শিশুর কাছে আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি, লিখেছেন সুমনা করিম।
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)