চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগে ছয়জন সার্জন আছেন, সপ্তাহে ছয় দিন অস্ত্রোপচারের সক্ষমতাও আছে। তবু এখন মাসে সর্বোচ্চ ছয় থেকে সাতটি অস্ত্রোপচার হচ্ছে। চট্টগ্রামসহ কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির মানুষের জন্য কার্ডিয়াক সার্জারির একমাত্র সরকারি হাসপাতাল এটি।
চিকিৎসকেরা দুটি কারণ বলছেন: জনবল আর যন্ত্রপাতি। শুরু থেকেই ৯০ জনের জনবল চাওয়া হয়েছিল, এখন কাজ চলছে ৪০ জনে। পারফিউশনিস্ট পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি; একজন জ্যেষ্ঠ নার্সকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। দুটি অস্ত্রোপচার কক্ষের একটির যন্ত্র নষ্ট, চারটি ভেন্টিলেটরের কার্যত সচল একটি, হার্ট-লাং ও অ্যানেসথেসিয়া মেশিনের দুটির একটি করে সচল।
২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগে ৯১২টি অস্ত্রোপচার হয়েছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশ ওপেন হার্ট সার্জারি। এখানে খরচ ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা; নগরের তিনটি বেসরকারি হাসপাতালে তা তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা। ৪০ শয্যার ২২টি এবং আটটি আইসিইউ শয্যার তিনটি সচল। রোগীদের তিন থেকে চার সপ্তাহ সাধারণ শয্যায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বিবিএসের ২০২৫ সালের জরিপে সারা দেশে প্রতি হাজারে ৩১ জনের বেশি মানুষের হার্টের সমস্যা পাওয়া গেছে; চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে এই হার হাজারে ৩৪ থেকে ৩৬। বিভাগ থেকে ৩৫ ধরনের যন্ত্রের চাহিদা দেওয়া হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৪ থেকে ১৯ কোটি টাকা।
বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কাজী আবুল আজাদ বলেন, প্রতিবছরই চাহিদাপত্র দেওয়া হয়; যন্ত্রের সঙ্গে জনবল ও আনুষঙ্গিক জিনিসও দরকার। সহকারী অধ্যাপক আহসান উদ্দিন মাহমুদ বলেন, জনবল ও যন্ত্র নিশ্চিত হলে প্রতিদিনই ওপেন হার্ট সার্জারি করা সম্ভব।
হৃদ্রোগ বিভাগেও সংকট আছে। তিনটি ক্যাথল্যাবের একটি ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে নষ্ট, আরেকটিতে জেনারেটর সংযোগ নেই। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ১ হাজার ৩৫৩টি এনজিওগ্রাম ও ৬৬১টি স্টেন্ট বসানো হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, চাহিদা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং নতুন দুই ভবনে সাতটি ক্যাথল্যাব থাকবে।
প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ফাহিম আল সামাদের।
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)