চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবান নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম বন অঞ্চলের প্রায় ৫৫ হাজার ১২৩ একর বনভূমি এখন বেদখলে। চট্টগ্রাম বন সংরক্ষক কার্যালয়ের তথ্য বলছে, অঞ্চলের মোট ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৯৬৮ একর বনভূমির মধ্যে ৬ লাখ ৫ হাজার ৩০৫ একর, অর্থাৎ ৭০ দশমিক ৭২ শতাংশ সংরক্ষিত বন এবং ১ লাখ ১০ হাজার ৭০৭ একর রক্ষিত বন।
জেলাভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রামের ৩ লাখ ৭০ হাজার ৯১ একর বনভূমির মধ্যে বেদখল ৩৩ হাজার ৬২০ একর। কক্সবাজারের দুই বন বিভাগের ২ লাখ ১১ হাজার ৮৫৪ একরের মধ্যে বেদখল ১৯ হাজার ৮৬২ একর। বান্দরবান ও লামার তিন বন বিভাগের ২ লাখ ৭২ হাজার ২৭ একরের মধ্যে বেদখল ১ হাজার ৬০২ একর।
বন গবেষকেরা বলছেন, দখলের পাশাপাশি নির্বিচারে গাছ কাটা, পাহাড়ে কৃষি সম্প্রসারণ ও অবকাঠামো নির্মাণে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে, কমছে দেশি উদ্ভিদ প্রজাতি। মায়া হরিণ, সাম্বার হরিণ, উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, বনরুই, লজ্জাবতী বানর, মেছো বিড়াল, রাজ গোখরা, বার্মিজ অজগর ও হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপের মতো প্রাণী এখন ঝুঁকিতে। আইইউসিএনের ২০১৬ সালের হিসাবে দেশে মহাবিপন্ন এশিয়ান হাতি ছিল ২৬৮টি।
পাহারার জনবলও কম। অঞ্চলের ৭১টি রেঞ্জ ও ১৭০টি বিটে ২ হাজার ২৮৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১ হাজার ১৮৪ জন; শূন্য ১ হাজার ১০০টি পদ। বনরক্ষীর ৮০২টি পদের ২৩০টি খালি, কাজ করছেন ৫৭২ জন। গড়ে একজন বনরক্ষীকে পাহারা দিতে হচ্ছে ১ হাজার ৪৯৭ একর বন।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, তিন জেলায় প্রায় ৫৫ হাজার ১২৩ একর বনভূমি এখনো জবরদখলে আছে, তবে মোট বনভূমির প্রায় ৮৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ সংরক্ষিত ও রক্ষিত। হাজারীখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, মেধাকচ্ছপিয়া, সাংগু-মাতামুহুরী সংরক্ষিত বন, ধোয়াপালং-হেমছড়ি জাতীয় উদ্যান ও জাহাজপুরা-শিলখালীর মতো বনে দুর্লভ গাছ, বাঁশ ও বন্যপ্রাণী আছে, তাই এ অঞ্চলের বন রক্ষা জরুরি বলে জানান তিনি।
পাহাড়ি বন, ঝরনা, নদী ও সমুদ্র ঘিরে এ অঞ্চলে ইকোট্যুরিজমও বাড়ছে। বেদখল জমি উদ্ধার না হলে বনের জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে সেই পর্যটনের ভবিষ্যৎও ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের চট্টগ্রাম সংবাদদাতার।
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)