চলনবিলের ধানখেত আর জলাশয় ঘিরে প্রতিদিন দেশি ও অতিথি পাখি শিকার চলছে, শিকার করা পাখি বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় হাটবাজারে প্রকাশ্যেই। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার পাটগাড়ি পাড়া মৌজার ধানখেতে কয়েকজন শিকারি পাতা দিয়ে বানানো ফাঁদে বাঁধা পাখি নিয়ে বসে আছেন, পাশে কলাপাতার খাঁচায় আরও পাখি; পরে সেগুলো ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়।
শিকারের কৌশলও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। লতাপাতায় ঝোপের মতো কাঠামো বানিয়ে তার ওপর জালের ফাঁদ বসানো হয়, একটি পাখির পা সুতায় বেঁধে লম্বা কঞ্চিতে ফাঁদটি গাছের মগডালে তোলা হয়। বাঁধা পাখিটি ডাকলে ও ডানা ঝাপটালে আশপাশের পাখি কাছে এসে জালে আটকা পড়ে। অনেক সময় টোপের পাখির চোখ অন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিকারি জানান, তিনি দিনে ছয়-সাতটি পাখি ধরে প্রায় দেড় হাজার টাকা আয় করেন এবং জানতেন না যে এটি অপরাধ।
চলনবিল জীব ও বৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি তাড়াশ, উল্লাপাড়া, সিংড়া, গুরুদাসপুর, চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়ায় শিকার বন্ধে কাজ করছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, ২০২০ সাল থেকে পাঁচ বছরে অন্তত দুই হাজার শিকার করা পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করেছেন তাঁরা, কিন্তু শিকারিরা ভয় না পাওয়ায় পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। দি বার্ডস সেফটি হাউজের চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাস বলেন, তৃণমূলে সচেতনতার অভাব আর সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ঘাটতি বড় বাধা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, পাখি নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ; পরিযায়ী ও দেশি পাখি ক্ষতিকর পোকা খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাড়াশের ইউএনও নুসরাত জাহান জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে পাখি হত্যার জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে, তথ্য পেলে অভিযান চালানো হচ্ছে। রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নিয়ামুর রহমানও শিকারকে অন্যায় বলে সচেতনতা কার্যক্রমের কথা জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনটি জাগো নিউজের প্রতিনিধি এম এ মালেকের প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: Sanjoykumar99 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪




মন্তব্য
(০)