তাপপ্রবাহ, দাবানল আর মানুষের তৈরি নিঃসরণ মিলে এ বছর বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষকে মাটির কাছাকাছি স্তরের চরম মাত্রার ওজোন দূষণের মুখে ফেলেছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস অ্যাটমোস্ফিয়ার মনিটরিং সার্ভিস (সিএএমএস)। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশ্বের ৩৪ শতাংশ মানুষ ‘চরম খারাপ’ বাতাসে ছিলেন, যেখানে ওজোনের ঘনত্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকার অনেক ওপরে।
তাপ ও সূর্যালোক যখন দাবানল, যানবাহন ও কারখানার নিঃসরণের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, তখন ভূপৃষ্ঠের কাছে ওজোন তৈরি হয়; এটি ফুসফুসের টিস্যুর ক্ষতি, শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির টান বাড়াতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আট ঘণ্টার গড়ে প্রতি ঘনমিটারে ১০০ মাইক্রোগ্রাম ওজোনকে সর্বোচ্চ নিরাপদ মাত্রা ধরে। উপগ্রহের তথ্য ও কম্পিউটার মডেল দিয়ে সিএএমএস বায়ুদূষণ ও দাবানল পর্যবেক্ষণ করে।
বিশ্বের আরও ১৭ শতাংশ মানুষ ‘খুব খারাপ’ বাতাস নিয়েছেন, মাত্র ৫ শতাংশ ছিলেন ‘ভালো’ মাত্রায়। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে এশিয়া: মহাদেশটির ৫৩ শতাংশ মানুষ চরম খারাপ আর ২২ শতাংশ খুব খারাপ ওজোনের মধ্যে ছিলেন। শিল্পায়ন, পরিবহন, দাবানল ও ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোকে এর কারণ বলা হয়েছে। নয়াদিল্লি, ঢাকা, চীনের চংকিং ও পাকিস্তানের লাহোরের ওজোনের মাত্রা ছিল ‘চরম খারাপ’।
ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় রেকর্ড তাপপ্রবাহ ও দাবানলের ধোঁয়া সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়েছে; উত্তর আমেরিকার দুই-তৃতীয়াংশ এবং ইউরোপের ৪৫ শতাংশ মানুষ ‘খারাপ’ বা ‘খুব খারাপ’ বাতাসে ছিলেন। ইন্দোনেশিয়ায় বড় দাবানল হয়েছে, আর জুনে শুরু হওয়া এল নিনো এ বছরের শেষ দিকে তুঙ্গে উঠে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আরও আগুনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।
সিএএমএসের পরিচালক লরেন্স রুইল বলেন, বায়ুদূষণ সীমান্ত মানে না; হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে মহাদেশ ও মহাসাগর পেরিয়ে দূরের বাতাসের মানকেও প্রভাবিত করে। ইউরোপীয় পরিবেশ সংস্থার কর্মকর্তা ইয়ান মারনেন জানান, ইউরোপে ওজোন দূষণের সঙ্গে বছরে ৬০ হাজার অকালমৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে। আফ্রিকার ৮ শতাংশ মানুষ চরম খারাপ বাতাসে ছিলেন; বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডসহ ওশেনিয়ার ৬৬ শতাংশ মানুষ ‘ভালো’ ওজোন মাত্রায় ছিলেন।
বাসস খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে প্রকাশ করেছে।
ছবি: NASA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)