মানুষের হাতে পরা ফিটবিটের মতো সেন্সর প্রযুক্তি দিয়ে গাভী কীভাবে বাছুরের যত্ন নেয় তা বুঝতে এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়ার গরুর খামারে বাছুর মারা যাওয়া কমানোর পথ খুঁজতে কাজ করছেন গবেষকেরা। খবরটি দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার গবাদিপশুবিষয়ক সংবাদমাধ্যম বিফ সেন্ট্রাল।
পাঁচ বছর মেয়াদি মুটার্নাল (Mooternal) প্রকল্পের নেতৃত্বে আছেন সিকিউইউনিভার্সিটির (CQUniversity) জ্যেষ্ঠ পোস্টডক্টরাল গবেষক ড. অনিতা চ্যাং (Anita Chang); অংশীদার নর্দার্ন টেরিটরির কৃষি ও মৎস্য বিভাগ, অর্থায়ন মিট অ্যান্ড লাইভস্টক অস্ট্রেলিয়ার। গাভী ও বাছুরের গায়ে জিপিএস ও অ্যাক্সিলেরোমিটার সেন্সর লাগিয়ে মায়ের আচরণ বাছুরের বেঁচে থাকা ও উৎপাদনশীলতায় কী প্রভাব ফেলে, তা দেখা হচ্ছে। ড. চ্যাংয়ের মতে, উত্তরের গরুশিল্পে উৎপাদনশীলতার সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি বাছুর হারানো।
তিনি বলেন, ফিটবিট যেমন নড়াচড়া দেখে বলে দেয় আপনি হাঁটছেন, দৌড়াচ্ছেন না বিশ্রাম নিচ্ছেন, গরুর ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। নড়াচড়ার ধরন থেকে আচরণ বোঝা যায়। বিশাল খামারে অনেক খামারি বছরে মাত্র এক-দুবার গরু হাতে পান, মাঝের সময়ে কী ঘটে তা এভাবে জানা সম্ভব হচ্ছে।
দ্বিতীয় বছরে থাকা প্রকল্পটি এমন অ্যালগরিদম তৈরি করছে, যা বাছুর মারা যাওয়ার ঘটনা শনাক্ত করবে এবং এর পেছনের আচরণগত ও পরিবেশগত কারণ চিহ্নিত করবে। প্রথম দফার পরীক্ষা হয়েছে ২০২৫-২৬ বাছুর জন্মের মৌসুমে, রকহ্যাম্পটনের কাছে সিকিউইউনিভার্সিটির বেলমন্ট গবেষণা কেন্দ্রে এবং ক্যাথরিনের কাছে ম্যানবুলু স্টেশনে।
শুরুর দিকের একটি বিস্ময়কর পর্যবেক্ষণ হলো অন্যের বাছুরকে মাতৃযত্ন দেওয়ার প্রবণতা: গাভীরা নিজের নয় এমন বাছুরের যত্ন নিচ্ছে, একাধিক বাছুরকে দুধও খেতে দিচ্ছে। ড. চ্যাং বলেন, এতে প্রশ্ন ওঠে, বাছুরের বেঁচে থাকা কি শুধু মা-বাছুরের সম্পর্কের ওপর নয়, পুরো পালের আচরণের ওপরও নির্ভর করে।
প্রাথমিক ফল আশাব্যঞ্জক। ২০২৬-২৭ মৌসুমে দুই কেন্দ্রে আরও পরীক্ষার পর ২০২৭-২৮ ও ২০২৮-২৯ মৌসুমে বাণিজ্যিক খামারে প্রযুক্তিটি যাচাই হবে; প্রকল্প চলবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, বাজারে থাকা গবাদিপশু পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তিতে এই অ্যালগরিদম যুক্ত করা, যাতে খামারিরা জানতে পারেন কখন, কোথায় বাছুর মারা যাচ্ছে এবং সম্ভাব্য কারণ কী।
ছবি: CSIRO / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Beef Central





মন্তব্য
(০)