আগুন, গরম তরল, বিদ্যুৎ, এসিড বা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পুড়ে যাওয়া রোগী প্রাথমিক চিকিৎসার পর স্থিতিশীল মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ঝুঁকি থেকে যায়। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপই তা ঠেকানোর উপায়, বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মাসরুর-উর-রহমান আবীর।
তাঁর পরামর্শ, পোড়ার পর প্রথমেই একজন বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। নিয়মিত ড্রেসিং, ওষুধ বা প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের মতো চিকিৎসাক্রম সঠিক সময়ে ও সঠিকভাবে শেষ হলে ভবিষ্যতে বড় জটিলতার আশঙ্কা অনেক কমে যায়।
পুনর্বাসনে ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও ফিজিওথেরাপিস্টের ভূমিকা অপরিহার্য। হাত-পা বা জোড়ার বিকৃতি ঠেকাতে তাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম দেন, আর প্রয়োজনে অঙ্গ সঠিক অবস্থানে রাখতে স্প্লিন্ট পরার পরামর্শ দেন।
পোড়ার কারণে হাত-পা বা আঙুল বাঁকা হয়ে গেলে শুরুতে বিশেষ ব্যায়ামে তা ঠিক করার চেষ্টা করা হয়। বিকৃতি গুরুতর হলে অস্ত্রোপচার লাগে, অনেক সময় একাধিকবার। অস্ত্রোপচারের পর স্প্লিন্ট বা প্লাস্টারে আক্রান্ত অঙ্গ স্থির ও উঁচু করে রাখার নির্দেশনা মানতে হবে।
চিকিৎসকের দেওয়া ব্যায়াম নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক। অস্ত্রোপচারের পর ব্যায়ামে অবহেলা করলে আগের বিকৃতি আবার ফিরে আসতে পারে। দীর্ঘদিন হাত-পা বা আঙুল বাঁকা থাকলে তা স্থায়ী হয়ে যেতে পারে, যা পরে অস্ত্রোপচারেও পুরোপুরি আগের মতো করা যায় না।
তাই পোড়ার প্রথম দিন থেকে পুরো পুনর্বাসন পর্যন্ত একজন বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জনের তত্ত্বাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। গ্রামে রান্নার চুলা বা গ্যাস সিলিন্ডারে পোড়ার ঘটনা কম নয়; সময়মতো ঠিক চিকিৎসা আর নিয়মিত ব্যায়ামই কর্মক্ষমতা ধরে রাখার চাবিকাঠি।
ছবি: Department of Foreign Affairs and Trade / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)