শরতের চাষ ও বোনার মৌসুমে ঢোকার মুখে যুক্তরাজ্যের কৃষকেরা খামারে ব্যবহৃত করমুক্ত লাল ডিজেলের দাম নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। পাইকারি বাজারের অস্থিরতায় দাম হঠাৎ ওঠানামা করছে, কখন কেনা ভালো তা ঠিক করা কঠিন হয়ে পড়েছে, জানিয়েছে Farmers Weekly। তাদের সর্বশেষ সরবরাহকারী জরিপে গড় দাম লিটারে ১১৮ পেনি, জুলাইয়ের শেষে যা ছিল প্রায় ৯৮ পেনি।
এএইচডিবির মাসিক মানদণ্ডে আগস্টের গড় দাম লিটারে ১০৮.৪৭ পেনি, এক মাসে ১৯.৬ শতাংশ আর এক বছরে ৪৩.৩ শতাংশ বেশি। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আর রাশিয়ার শোধনাগারের উৎপাদন কমায় বিশ্ব ডিজেল বাজারে বিঘ্নের পর এই বৃদ্ধি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিজেল রপ্তানি সীমিত করার হুমকিও দিয়েছেন, যদিও ৯০ দিনের নিষেধাজ্ঞার খবর অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস; যুক্তরাজ্য তার ডিজেলের প্রায় ৩০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনে।
জ্বালানির বাড়তি খরচ সরাসরি চাষ, বোনা ও পশুপালনের কাজে পড়ে, আর ভাড়াটে সেবাদাতারা চার্জ বাড়ানো বা জ্বালানি সারচার্জ বসানোর চাপে আছেন। ৩০০ সদস্যের জন্য জ্বালানি কেনা অক্সফোর্ডশায়ারের ওরিয়ন ফার্মিং গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক স্টুয়ার্ট গুডিনসন জানান, ৯ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে লাল ডিজেলের দাম ৫ শতাংশ বেড়েছে, স্থানীয়ভাবে সামান্য কমলেও সামগ্রিক প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী। "এখন একমাত্র নিশ্চিত বিষয় হলো অনিশ্চয়তা," বলেন তিনি।
ওরচেস্টারশায়ারের সরবরাহকারী ক্যালো অয়েলসের পরিচালক হেলেন নিডহ্যাম অবশ্য জানান, আগের শুক্রবার থেকে দাম ৪-৫ পেনি কমে আবার লিটারে ১১১-১১২ পেনিতে নেমেছে, সর্বোচ্চ উঠেছিল ১১৫ পেনি। "বাজার এখন খুবই অস্থির," বলেন তিনি। "কোনো কোনো অঞ্চলে ঘাটতিও আছে।"
উইল্টশায়ারের মিশ্র খামারি ডেভিড বাটলার সতর্ক করেন, উঁচু দাম জ্বালানি চুরির প্রবণতা বাড়াতে পারে। আরএসির হিসাবে পাম্পে সাধারণ ডিজেলের দাম লিটারে রেকর্ড ১৯৯.১৮ পেনিতে উঠেছে, আর আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মতে রাশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে শোধন কাজ না বাড়লে বা চাহিদা দ্রুত না কমলে কয়েক মাস বিশ্ব ডিজেল বাজার চাপে থাকবে।
ছবি: Michael Trolove / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)