রাসায়নিক নাইট্রোজেন সারের বিকল্প হিসেবে জিন-প্রকৌশলী অণুজীব মাঠে পরীক্ষার অনুমোদন পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জৈবপ্রযুক্তি স্টার্টআপ সুইচ বায়োওয়ার্কস (Switch Bioworks)। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ব্রাজিলের জাতীয় কারিগরি জৈবনিরাপত্তা কমিশন দেশটিতে তাদের নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী অণুজীবের মাঠপরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে। বাণিজ্যিকীকরণের জন্য তারা নতুন বিনিয়োগ তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, জানিয়েছে এগনেভিগেটর।
সমস্যাটি হলো, ব্রাজিলের কৃষকেরা সারের জন্য বিদেশি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ২০২২ সালে স্ট্যানফোর্ডের স্নাতক টিম শ্নাবেল (Tim Schnabel) প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানি একটি অণুজীব পাউডার তৈরি করেছে, যা গাছের শিকড়ের চারপাশে বসতি গড়ে। এরপর একটি জেনেটিক 'সুইচ' চালু হয়ে ফসলের প্রয়োজনের সময়, সাধারণত প্রায় ছয় সপ্তাহ পর, নাইট্রোজেন উৎপাদন শুরু করে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা কেটলিন কিন (Kaitlyn Qin) জানান, তাঁদের লক্ষ্য রাসায়নিক নাইট্রোজেনের বাজারের ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ প্রতিস্থাপন করা এবং পরে ফসফরাসের মতো অন্য পুষ্টি উপাদানেও যাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রে সুইচ ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পেয়েছে এবং কেনিয়ায় গবেষণা চালাচ্ছে।
কিনের মতে, ব্রাজিলে জৈব কৃষি উপকরণের চাহিদা বেশি, আর বছরে দুই ফসলের চাষের কারণে দ্রুত পরীক্ষা চালানো যায়। এগনেভিগেটর স্ট্যাটিস্টার তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নাইট্রোজেন ব্যবহার হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ২৪ হাজার টন, ব্রাজিলে ৬২ লাখ ৯১ হাজার টন। ব্রাজিলের কৃষকেরা কম নাইট্রোজেন দেন বলে একরপ্রতি প্রায় ৪০ পাউন্ড রাসায়নিক নাইট্রোজেন প্রতিস্থাপন করলে সেখানে ব্যবহার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমতে পারে বলে কিন জানান।
শ্নাবেল এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, গবেষণা, বাণিজ্যিক পরিসর ও কৃষকদের গ্রহণযোগ্যতায় ব্রাজিল জৈব কৃষি উপকরণে বিশ্বের অন্যতম শক্তিকেন্দ্র।
কিন জানান, প্রতিষ্ঠানটি লাভের পথ দেখতে পাচ্ছে এবং বড় অবকাঠামো বিনিয়োগ লাগে না বলে বারবার মূলধন তোলার প্রয়োজন হবে না বলে মনে করেন। তাঁর মতে, বিশ্বে এমন সার দরকার যা জীবাশ্ম জ্বালানির দামের ওঠানামার ওপর নির্ভর করে না।
ছবি: USDA NRCS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: এগনেভিগেটর




মন্তব্য
(০)