ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলের মানুষের জন্য গাইবান্ধার কামারজানি চরে নোঙর করা একটি ভাসমান হাসপাতাল হয়ে উঠেছে চিকিৎসার ভরসা। দুর্গম চর পেরিয়ে প্রতিদিন শত শত রোগী আসেন ‘লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল’ নামের এই নৌযানে।
শেরপুরের শ্রীবরদী থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এসেছিলেন ৭২ বছরের আনছার আলী। এক বছর ধরে ছানিতে তাঁর বাঁ চোখ প্রায় অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ২০ টাকা খরচে এখানে তাঁর চোখের অস্ত্রোপচার হয়েছে। বগুড়ার সারিয়াকান্দির ৫৫ বছরের মিজানুর রহমানও চোখের অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। জামালপুরের বকশীগঞ্জের আট বছরের আলিফের রক্তের জন্মগত একটি জটিল রোগ ধরা পড়েছে হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে।
নদীভাঙন, বন্যা আর দীর্ঘ নৌপথের কারণে চরের মানুষের পক্ষে সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যাওয়া কঠিন। ২০০২ সালে ফ্রান্স থেকে আনা একটি বার্জকে ভাসমান হাসপাতালে রূপান্তর করে এই সেবা শুরু হয়। ইউনিলিভারের ব্র্যান্ড লাইফবয় ও উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ যৌথভাবে এটি পরিচালনা করে।
হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, চোখ, দাঁত ও চর্মরোগের চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার ও প্যাথলজি পরীক্ষা হয়। দূরের চর থেকে রোগী আনা-নেওয়ার জন্য আছে দুটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রলার।
সমকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর থেকে হাসপাতালটি আট লাখ ১৬ হাজারের বেশি রোগীকে ১৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি সেবা দিয়েছে। ৪৮৯টি সার্জিক্যাল ক্যাম্পে ১৯ হাজারের বেশি অস্ত্রোপচার হয়েছে, আর শুধু ২০২৫ সালেই সেবা পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৭৮৪ জন।
সম্প্রতি হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী রুহুল কুদ্দুস খান বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের জন্য চিকিৎসা মানে কাজে ফিরে যাওয়া আর সংসার সচল হওয়া।
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)