জৈব কৃষি উপকরণ, অর্থাৎ জৈব বালাইনাশক, জৈব সার ও জৈব উদ্দীপক, বাজারে বড় সুযোগ পাচ্ছে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাবে তারাই, যাদের পণ্য কৃষকের চলতি ফসল ব্যবস্থাপনায় সহজে মিশে যায়; সবচেয়ে নতুন পণ্যটি নয়। লন্ডনে ওয়ার্ল্ড এগ্রি-টেক ইনোভেশন সামিটে বক্তারা এ কথা বলেন।
সম্মেলনে উদ্ধৃত পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাসায়নিক সার ও বালাইনাশকের পরিণত বাজার বছরে ৩ থেকে ৫ শতাংশ বাড়ছে, আর জৈব উপকরণের বাজার বাড়ছে প্রায় তিন গুণ দ্রুত। বক্তারা জোর দেন, এগুলোকে রাসায়নিকের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, কৃষকের হাতিয়ারের বাড়তি সংযোজন হিসেবে দেখতে হবে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান DunhamTrimmer (ডানহ্যামট্রিমার)-এর ব্যবস্থাপনা অংশীদার Manel Cervera Comabella (মানেল সেরভেরা কোমাবেয়া) বলেন, সেরা পণ্য নয়, যে পণ্য পুরো ব্যবস্থায় ভালোভাবে খাপ খায়, জয় তারই। Corteva Agriscience (কর্টেভা এগ্রিসায়েন্স)-এর গবেষণা বিভাগের বাইরের উদ্ভাবনে বিনিয়োগের প্রধান Tom Greene (টম গ্রিন) জানান, গত এক দশকের শিক্ষা হলো, জৈব উপকরণ আলাদাভাবে কাজ করে না, একটি সমন্বিত কর্মসূচির অংশ হতে হয়।
সেরভেরা কোমাবেয়ার মতে, সাফল্যের মাপকাঠি এখন সর্বোচ্চ ফলন নয়, প্রতিকূল অবস্থায় স্থির ফলন। আয় বৃদ্ধির চেয়ে হেক্টরপ্রতি মোট মুনাফা ও কৃষকের বারবার কেনা বেশি অর্থবহ বলে তিনি মনে করেন। খরা, তাপ, পোকা, রোগ আর উপকরণের অস্থির দামের মুখে এতে জৈব উপকরণের গুরুত্ব বাড়তে পারে। Giga Futures (গিগা ফিউচার্স)-এর প্রতিষ্ঠাতা Christine Gould (ক্রিস্টিন গোল্ড) বলেন, কৃষি গড়ে উঠেছিল এমন এক পৃথিবীর জন্য, যা আর নেই; এখন দরকার বিকল্প।
তবে টম গ্রিন সতর্ক করেন, মাঠে কাজ না করলে এবং লাভ না দিলে শুধু প্রাকৃতিক বা টেকসই বলে কৃষক বাড়তি দাম দেবেন না।
বক্তারা জানান, ইউরোপে নিয়ন্ত্রণ কাঠামোই প্রধান বাধা। ইউরোপে উদ্ভাবিত একটি জৈব নিয়ন্ত্রণ পণ্যের অনুমোদন পেতে সেখানে ১০ থেকে ১২ বছর লাগে, যেখানে ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রে লাগে দুই থেকে তিন বছর। টম গ্রিন জৈব ও প্রকৃতি-উদ্ভূত পণ্যের জন্য বিজ্ঞান ও ঝুঁকিভিত্তিক সরল অনুমোদন প্রক্রিয়ার আহ্বান জানান, যা উদ্ভাবন ও মাঠে ব্যবহার দুটিই দ্রুত করবে বলে তাঁর বিশ্বাস।
প্রতিবেদনটি এজিনেভিগেটরের জন্য লিখেছেন অলিভার মরিসন।
ছবি: Stefan Jaronski / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)