যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডের জেমস হাটন ইনস্টিটিউট (James Hutton Institute) ও কৃষিপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রিসাউন্ড (AgriSound) ফলচাষিদের জন্য একটি নিখুঁত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি করছে, যা পরাগায়নের ঘাটতি চিহ্নিত করবে এবং কখন ব্যবস্থা নিতে হবে তা জানাবে।
চাষিরা সাধারণত চোখে দেখে এবং মৌচাকের প্রচলিত সুপারিশ মেনে পরাগায়ন বিচার করেন। কিন্তু আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা, পরাগবাহী পতঙ্গের সংখ্যার পরিবর্তন এবং এক খামার থেকে আরেক খামারে পার্থক্যের কারণে সেই বিচার কম নির্ভরযোগ্য হয়ে পড়ছে বলে অংশীদারেরা জানিয়েছে।
প্রকল্পটি অ্যাগ্রিসাউন্ডের ‘প্রিসিশন পলিনেশন’ প্ল্যাটফর্মের ওপর দাঁড়িয়ে, যেখানে ‘পলি’ নামের জৈব-শব্দ সেন্সর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরাগবাহী পতঙ্গের কার্যকলাপ মাপা হয়। এখন স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, রাস্পবেরি, ব্ল্যাকবেরি ও চেরিতে মৌমাছি, ভোমরা, একক মৌমাছি ও হোভারফ্লাই পর্যবেক্ষণে এটি সম্প্রসারিত হবে। যাচাই পরীক্ষায় শব্দ পর্যবেক্ষণের সঙ্গে স্মার্ট ট্যাগ, টাইম-ল্যাপস ছবি, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও ফসলের পারফরম্যান্স মাপা হবে, আর সেই তথ্যে শনাক্তকরণ অ্যালগরিদম উন্নত করা হবে।
গবেষকেরা পরাগবাহীর কার্যকলাপের সঙ্গে ফল ধরা, ফলন ও ফলের মানের সম্পর্ক পরীক্ষা করবেন, যাতে অপর্যাপ্ত পরাগায়ন চিহ্নিত করার স্পষ্ট প্রমাণ চাষিরা পান। হাটন ইনস্টিটিউট ফুলের বৈশিষ্ট্য ও উদ্ভিদের জিন পরাগবাহীকে কতটা আকৃষ্ট করে তাও দেখবে, যাতে বাণিজ্যিক গুণের পাশাপাশি পরাগবাহীর কাছে বেশি আকর্ষণীয় ফলের জাত উদ্ভাবন করা যায়।
অ্যাগ্রিসাউন্ডের প্রধান নির্বাহী ড. ক্যাসি উডওয়ার্ড (Casey Woodward) বলেন, ফল উৎপাদনে পরাগায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অথচ এখনো তা প্রায়ই অনুমানের ওপর চলে। হাটনের নরম ফলের জিনতত্ত্ববিদ ও প্রজননবিদ ড. সুসান ম্যাককালাম (Susan McCallum) বলেন, এই সহযোগিতা চাষি ও প্রজননবিদদের বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে।
অংশীদারদের মতে, দীর্ঘ মেয়াদে এই কাজ যুক্তরাজ্যের ফল খাতের উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও টেকসই করতে পারে।
সূত্র: Seed World Europe



মন্তব্য
(০)