ময়মনসিংহের ভালুকার হাতিবেড় গ্রামে দেশের প্রথম কুমির খামার থেকে ছয় বছর ধরে কোনো চামড়া রপ্তানি হয়নি। খামারটি এখন যে এনজিওর মালিকানায়, তাদের নামে বন বিভাগের লাইসেন্স নবায়ন না হওয়ায় কুমিরের চামড়া, মাংস বা অন্য কিছু বিক্রি করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে দেশ রূপান্তর।
প্রায় দুই দশক আগে ১৩ দশমিক ৪০ একর জমিতে রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড খামারটি গড়ে তোলে; লেখক ও উদ্যোক্তা মুশতাক আহমেদ (প্রয়াত) ও মেজবাউল হক ২০০৩ সালে প্রস্তুতি শুরু করে পরের বছর মালয়েশিয়া থেকে ৭৫টি কুমির আনেন। জাপানে চামড়া রপ্তানি হয় ২০১৪ সালে ৪৩০টি, ২০১৫ সালে ৪০০টি, ২০১৬ সালে ২০০টি, ২০১৮ সালে ২২৬টি ও ২০১৯ সালে ২৫১টি। প্রথম পাঁচ বছরে রপ্তানি হয় ১ হাজার ৫০৭টি চামড়া, প্রতিটির দাম ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার।
২০১২ সালে প্রতিষ্ঠাতারা শেয়ার হস্তান্তর করেন; বিতর্কিত ব্যবসায়ী পি কে হালদারের কাছে শেয়ার বিক্রির অভিযোগও আছে, যিনি খামার বন্ধক রেখে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। ২০২২ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত ছয় সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ ২০২৩ সালে নিলামে জমি ও কুমির ৩৮ কোটি ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করে; কিনে নেয় এনজিও উদ্দীপন।
উদ্দীপনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রতিটি কুমিরের জন্য বছরে ১ হাজার টাকা সরকারি রাজস্ব, কর্মীদের বেতন আর মাসে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার খাবারের খরচ মেটাতে তারা হিমশিম খাচ্ছে; ২০ জনের জায়গায় এখন ১০ জন কর্মী খামার পাহারা দেন। সরেজমিনে খামারে আবর্জনা, ভাঙা পুকুরপাড় আর অনিয়মিত খাবারের চিত্র দেখেছেন প্রতিবেদক; কর্মীরা কথা বলতে রাজি হননি।
২০২৩ সালের মে মাসে খামার কর্তৃপক্ষ ছোট-বড় ৩ হাজার ৭০০টি কুমির এবং ৪০০টি রপ্তানিযোগ্য চামড়ার কথা জানিয়েছিল; তিন বছর পরও একই সংখ্যা বলা হচ্ছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অথচ প্রতিটি কুমির তিন বছরেই রপ্তানিযোগ্য হয়। প্রকল্প ব্যবস্থাপক ডা. আবু সাইম মো. আরিফ বলেন, বন বিভাগের অনুমতি পেলে ৪০০ কুমিরের চামড়া রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যাবে।
উদ্দীপনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইস্তেয়াক হাসান জানান, লাইসেন্সের আবেদন করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক ছানাউল্যা পাটওয়ারী বলেন, হস্তান্তরের সঠিক কাগজপত্রসহ আবেদন করতে বলা হয়েছে; লাইসেন্স রেপটাইলস ফার্মের নামে থাকায় প্রাণীগুলো অবৈধ নয়। প্রতিবেদনটি করেছেন ভালুকা প্রতিনিধি শাহ মো. আলী আজগর।
সূত্র: দেশ রূপান্তর


মন্তব্য
(০)