গ্রিনহাউসে টমেটোসহ সবজি ও ফলের চাষ চালাতে সেন্সর, ক্যামেরা, রোবট আর যন্ত্রশিক্ষা (মেশিন লার্নিং) একসঙ্গে ব্যবহার করে জার্মানির বার্লিনের স্টার্টআপ হেক্সাফার্মস (Hexafarms)। এই প্রযুক্তি বাড়াতে প্রাথমিক পর্যায়ের (সিড) বিনিয়োগ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি ৪৮ লাখ ইউরো পেয়েছে। টাকাটা যাবে তারবিহীন সেন্সরে ফসল পর্যবেক্ষণ আর যন্ত্রের সাহায্যে পোকা ও রোগ শনাক্তের কাজে, সঙ্গে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, বেনেলাক্স অঞ্চল ও স্পেনে ব্যবসা বাড়াতে।
প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড আহমেদ (David Ahmed) এজিনেভিগেটরকে বলেছেন, সমস্যাটা হলো চাষির হাতে যত তথ্য থাকে, তার খুব কমই কাজে লাগে। গ্রিনহাউসের টমেটো কার্বন ডাই-অক্সাইড, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও সূর্যের আলোর ওপর নির্ভর করে; নির্দিষ্ট সপ্তাহে সর্বোচ্চ ফলন পেতে এত বিষয় একসঙ্গে মেলানো মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। হেক্সাফার্মসের সেন্সর এসব অবস্থা সারাক্ষণ মাপে, ক্যামেরা গাছের ছবি তোলে, আর সেই তথ্য দিয়ে এআই মডেল চাষের কৌশল ঠিক করে দেয়।
প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ১৩টি দেশের ৫০টির বেশি চাষি ও প্রতিষ্ঠান এখন এই ব্যবস্থা ব্যবহার করছে; গ্রাহকদের মধ্যে আছে সানলুকার (SanLucar) এবং চাষিদের সমবায় এলো (Elo) ও রয়্যাল জন (Royal ZON)। এ বছর গ্রাহকেরা এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ৩০ কোটি ইউরোর বেশি মূল্যের পণ্য সামলেছেন, আর তাদের মডেল প্রায় ৫০টি জাতের ফসল চেনে।
বিনিয়োগে নেতৃত্ব দিয়েছে আনন্দা ইমপ্যাক্ট ভেঞ্চারস ও গ্রিন জেনারেশন ফান্ড; সঙ্গে ছিল গ্রে সাইলো ভেঞ্চারস ও বেটার ভেঞ্চারস, আর আগের বিনিয়োগকারী স্পিডইনভেস্ট, মাডকেক ও টেকস্টারস। জার্মানির কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক রেন্টেনব্যাংকের স্টার্টআপ অনুদান এবং সর্বোচ্চ ৮ লাখ ইউরোর একটি ঋণও পেয়েছে হেক্সাফার্মস।
আহমেদের দাবি বড়। তাঁর ভাষায়, সবচেয়ে দক্ষ চাষিও আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছেন না, আর তাঁদের এআই মডেল সেটা ফিরিয়ে দিতে পারবে। প্রতিদিন হাজারো টমেটো গাছের ফল ও ফুলের সংখ্যা, কাণ্ডের ব্যাস ও পাতার আকার মাপা হয় বলে তাঁর দাবি, বায়ার বা সিনজেনটার মতো বীজ কোম্পানির চেয়েও ফসলের বেশি তথ্য তাঁদের কাছে আছে। এসব প্রতিষ্ঠানেরই হিসাব; এজিনেভিগেটর মনে করিয়ে দিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এখনো একটি শস্য আবর্তনের চেয়েও নবীন, আর এআই মডেল ততটাই ভালো, যত ভালো তার তথ্য।
নতুনত্বটা যন্ত্রে। হেক্সাফার্মস নিজেই কম দামের উচ্চ রেজোলিউশনের ক্যামেরা আর সস্তা তারবিহীন সেন্সর বানিয়েছে, এখন রোবটের দিকে যাচ্ছে। আহমেদ বলেন, শুরুতে প্রতি হেক্টরে চারটি ক্যামেরা লেন্স ছিল; এখন এমন রোবট নামানো হচ্ছে, যা প্রতিটি গাছ দেখবে।
গ্রিনহাউসের চাষির কাছে এর মানে হলো মৌসুমের পর মৌসুম আন্দাজে না চলে মাপজোখ দেখে ফলনের পরিকল্পনা, আর সারি ধরে হেঁটে না খুঁজে যন্ত্রের চোখে পোকা ও রোগ ধরা।
প্রতিবেদন: হ্যারি হোমস (Harry Holmes), এজিনেভিগেটর।
সূত্র: AgNavigator


মন্তব্য
(০)