ফরিদপুরের গ্রামগঞ্জে তাল, ঝাউ ও নারিকেল পাতায় বুনে তোলা বাবুই পাখির বাসা একসময় প্রতিটি মেঠো পথ, খালপাড় আর ফসলের মাঠের কোণে চোখে পড়ত। জেলার নয়টি উপজেলার গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, গাছ কাটা ও প্রাকৃতিক পরিবেশের বিপর্যয়ে শিল্পী এই পাখির আবাসস্থল আশঙ্কাজনক হারে কমে এসেছে।
স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ও পরিবেশ সচেতনদের মতে, নির্বিচারে তাল, নারিকেল ও খেজুর গাছ কাটা, ফসলি জমিতে অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশকের ব্যবহার এবং বুনো ঘাস ও লতাপাতার ঘাটতি বাবুইয়ের বংশবৃদ্ধি ও বাসা বাঁধার পরিবেশ নষ্ট করছে।
সদর উপজেলার কানাইপুরের ষাটোর্ধ্ব আব্দুল জলিল বলেন, আগে বর্ষায় গাছে গাছে শত শত বাসা দেখা যেত, ঝড়েও দোল খেত নিখুঁত কারুকাজের বাসা; এখন গ্রামে তালগাছই খুঁজে পাওয়া দায়, বাবুই দেখা তো ভাগ্যের ব্যাপার। সালথার কৃষক খালেক মোল্যা জানান, ফসলের পোকা-মাকড় খেয়ে বাবুই প্রাকৃতিকভাবে ভারসাম্য রাখত; এখন জমিতে বিষাক্ত কীটনাশক দেওয়ায় পাখিগুলো খাদ্য সংকটে পড়ছে ও মারা যাচ্ছে।
ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, ক্ষতিকর পোকা খেয়ে বাবুই কৃষকের অনেক উপকার করে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এর ভূমিকা অপরিসীম; মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার না করতে এবং পাখির বাসস্থানের গাছ কাটার বিষয়ে সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বৃক্ষনিধন ও অপরিকল্পিত নগরায়ণে বাবুইয়ের আবাসস্থল চরম হুমকিতে; তালগাছই এদের প্রধান আশ্রয়, গাছ কাটায় এরা প্রজনন কেন্দ্র হারাচ্ছে। বাবুই প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে কাজ করে; তাই সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বেশি করে তাল ও নারিকেল চারা রোপণে স্থানীয়দের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
পরিবেশবাদীদের মতে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে বাবুইয়ের নিপুণ বাসার গল্প কেবল বইয়ের পাতায় থেকে যাবে। কৃষকের হিসাবে বিষয়টি সরল—যে পাখি বিনা খরচে পোকা সামলাত, তাকে হারানো মানে কীটনাশকের বিল বাড়া; তালগাছ লাগানো ও পরিমিত কীটনাশক দুটোই তাই মাঠের স্বার্থে।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪





মন্তব্য
(০)