একসময় বড় লঞ্চ চলত যেসব নদীতে, বরিশালের সেই নদীগুলোর অনেকটি এখন মরা খালে পরিণত হচ্ছে, যেখানে ট্রলারও চলতে পারে না। দখল, দূষণ, ডুবোচর আর নদীশাসনের অভাবকে এর কারণ বলছেন স্থানীয়রা ও বিশেষজ্ঞরা। বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যে জেলায় ছোট-বড় ৩৮টি নদী রয়েছে, যার আয়তন ৭১৬ কিলোমিটার।
কীর্তনখোলা থেকে উৎপত্তি হয়ে প্রায় ৪১ কিলোমিটার বয়ে যাওয়া খয়রাবাদ নদী এখন খালের মতো। কর্ণকাঠির বাসিন্দা মো. হাকিম আলী বলেন, একসময় এই নদীতে বড় লঞ্চ ও জাহাজ চলত, এখন বড় ট্রলারও ঢুকতে পারে না। প্রায় ৫০ বছর ধরে এ নদীতে মাছ ধরা শাহে আলম মাঝি পেশা বদলে এখন ক্ষুদ্র ব্যবসা করেন; তাঁর মতে ২০১১ সালে সেতু নির্মাণের পর থেকে নদীটি সংকটে পড়ে।
হিজলার লতা নদীতে প্রায় ২২ বছর ধরে লঞ্চ চলে না, উজিরপুরের কঁচা নদীর বড় অংশ মৃতপ্রায়, বাকেরগঞ্জের প্রায় ২২ কিলোমিটারের শ্রীমন্ত নদী এখন পরিচিত শ্রীমন্ত খাল নামে। আড়িয়াল খাঁর শাখা পালরদী নদীর ২২ কিলোমিটারও ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট লিংকন বাইয়েন বলেন, সরকারি সমীক্ষায় বরিশাল বিভাগে একসময় ১৪০টি নদীর অস্তিত্ব ছিল; ডুবোচর, নদীর মুখে বাঁধ ও সেতু নির্মাণে এগুলো সংকটে, তাই নদীশাসন জরুরি।
বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল বন্দর নিয়ন্ত্রক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নাব্যতা সংকটই অনেক নৌপথ বন্ধের বড় কারণ, আর নৌপথ সচল রাখতে ড্রেজিং জরুরি। বরিশাল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, নদীশাসন ব্যয়বহুল; ছোট হয়ে যাওয়া নদী উদ্ধারে আপাতত সরকারের কোনো পরিকল্পনা তাঁদের কাছে নেই, তবে খাল খননের বড় প্রকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আমাদের সময়





মন্তব্য
(০)