সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ৫ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা৩০°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৬৫%বাতাস ৬ কিমি/ঘ

খাদ্য সংস্কৃতি বদলাচ্ছে, মান আর নিরাপত্তা কি টিকছে: এক শেফের প্রশ্ন

সমকালে প্রকাশিত কলামে শেফ জাহেদ আহমেদ লিখেছেন, প্রক্রিয়াজাত খাবার সমস্যা নয়; সমস্যা হয় যখন মান ও উপকরণের চেয়ে কম খরচে বেশি লাভই লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।

খাদ্য সংস্কৃতি বদলাচ্ছে, মান আর নিরাপত্তা কি টিকছে: এক শেফের প্রশ্ন
মতামত

বাংলাদেশের খাদ্য সংস্কৃতি দ্রুত বদলাচ্ছে, কিন্তু খাবারের বৈচিত্র্য বাড়লেও ভালো খাবারের নিশ্চয়তা বেড়েছে কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন শেফ জাহেদ আহমেদ। সমকালে প্রকাশিত কলামে তিনি লিখেছেন, একসময় উঠানে শুকানো মসলা, মৌসুমি সবজি, তাজা মাছ, ঘরে তৈরি আচার আর পিঠা ছিল খাবারের নিজস্ব পরিচয়; স্বাদ নির্ভর করত উপকরণের সতেজতা, রান্নার সময়, পদ্ধতি ও পারিবারিক ঐতিহ্যের ওপর।

লেখকের মতে, শহুরে ব্যস্ততা, কম সময়ে রান্নার প্রয়োজন, ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা আর রুচির বদলে রেডি-টু-কুক, ফ্রোজেন, ইনস্ট্যান্ট ও প্রক্রিয়াজাত খাবার জায়গা করে নিয়েছে। তিনি এগুলোকে সমস্যা মনে করেন না; প্রায় সব দেশেই খাবার সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করার নিজস্ব ব্যবস্থা আছে। সমস্যা তখনই, যখন মান, নিরাপত্তা ও আসল উপকরণের চেয়ে কম খরচে বেশি লাভ মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে।

তিনি লিখেছেন, অনেক খাবারের আসল উপকরণ বা মান সম্পর্কে ভোক্তার পক্ষে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া কঠিন: কোথাও অতিরিক্ত রং, কোথাও নিম্নমানের উপকরণ বা কৃত্রিম স্বাদ। আবার কিছু ঐতিহ্যবাহী খাবারের নাম ঠিক আছে, কিন্তু উপকরণ ও রান্নার পদ্ধতি এতটা বদলেছে যে খাবারটির চরিত্রই আর আগের মতো নেই। সবচেয়ে চিন্তার বিষয়, এই পরিবর্তনকে আমরা স্বাভাবিক বলে মেনে নিচ্ছি।

দায় শুধু ব্যবসায়ীদের নয় বলেও মনে করেন লেখক। ভোক্তা কম দামে বেশি খাবার চাইলে বাজারও সেদিকে যাবে, আর দাম কমানোর প্রতিযোগিতায় মান কমলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতি ভোক্তার, ক্ষতি খাদ্য সংস্কৃতিরও।

বিদেশের পেশাদার রান্নাঘরে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি লিখেছেন, নিজস্ব খাবারকে সম্মান করা মানে শুধু পুরোনো রেসিপি রাখা নয়; ভালো উপকরণ বাছাই, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, সঠিক রান্না আর মানসম্মত পরিবেশনও এর অংশ। আঞ্চলিক খাবার রেস্তোরাঁয় ফেরানো, নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্যবাহী খাবারের গল্প পৌঁছানোয় শেফ, রেস্তোরাঁ মালিক ও খাদ্য ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব আছে, তবে বড় ভূমিকা ভোক্তার: কী খাচ্ছি, কী দিয়ে তৈরি, উপকরণ কোথা থেকে আসছে, তা জানতে হবে।

শেষে তিনি লিখেছেন, পরিবর্তন থামানো সম্ভব নয়, প্রয়োজনও নেই; কিন্তু তাজা উপকরণ, আঞ্চলিক রান্না, ঘরোয়া স্বাদ ও খাদ্য নিরাপত্তা ধরে রাখতে হবে, কারণ একটি দেশের খাবারে থাকে তার ইতিহাস, মাটি, কৃষি, নদী আর প্রজন্মের স্মৃতি।

জাহেদ আহমেদ কট অ্যান্ড কাবল আইরিশ ট্রাডিশনাল রেস্টুরেন্টের সু-শেফ। মতামত লেখকের নিজস্ব।

ছবি: Nahid Sultan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: সমকাল

সমকালসূত্র

মতামত

সম্পর্কিত খবর

মতামত

না মেপে আফ্রিকার ফসল-পরবর্তী ক্ষতি অর্ধেক করা যাবে না: এজিআরএর লেখকদের মত

এজিআরএর এক মতামত লেখায় চার লেখক বলেছেন, সাব-সাহারান আফ্রিকা ফসল তোলা থেকে বাজার পর্যন্ত প্রায় ২৩ শতাংশ খাদ্য হারায়, ২০৩৫ সালের মধ্যে ক্ষতি অর্ধেক করার লক্ষ্যের কোনো ভিত্তিরেখা নেই, আর সংরক্ষণ প্রযুক্তি ছড়ায় তখনই, যখন বাজারে তা লাভজনক হয়।

এজিআরএ৫ অক্টোবর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
মতামত

উৎপাদন বেড়েছে পাঁচ গুণ, সঙ্গে বেড়েছে অপচয় আর ক্ষুধা: উম্মে সালমার কলাম

দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত কলামে উম্মে সালমা লিখেছেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় ৩৪ শতাংশ ক্ষয় বা অপচয় হয়, অথচ দেশের ৬৬ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে পারেন না।

দ্য ডেইলি স্টার৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ইসলাম

দ্বৈত নাগরিকের হজ: বাংলাদেশ কোটায় যাওয়া বৈধ, পাসপোর্টে লুকোচুরি নয়

যুক্তরাজ্যের ব্যারিস্টার নাজির আহমদ লিখেছেন, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি দ্বৈত নাগরিকেরা বাংলাদেশের কোটায় হজে যেতে পারেন, তবে ফেরার পথে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে পাসপোর্ট বদলানো নৈতিক ও আইনগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

বার্তা২৪৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)