ভোর হতেই বরিশালের বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে জড়ো হয় শত শত ছোট-বড় ডিঙি ও ট্রলার। এক নৌকায় চলে ধানের দরদাম, পাশের নৌকায় মাপা হয় চাল; ক্রেতা-বিক্রেতার দরকষাকষি, বস্তা টানা আর নগদ লেনদেন—সবই নদীর বুকে ভাসমান নৌকায়।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, সন্ধ্যার তীরে ধান-চালের এই ভাসমান বাণিজ্যের বয়স প্রায় ২০০ বছর। একসময় নদীর দুই পাশে সারি সারি ধান-চালের আড়ত ও চালকল ছিল। কালের বিবর্তনে পালতোলা নৌকার জায়গা নিয়েছে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার, কিন্তু নৌকায় নৌকায় বেচাকেনার রীতি বদলায়নি।
বানারীপাড়ার নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরু, লম্বাটে ও সুগন্ধি ‘বালাম চাল’, যার একসময় দেশজুড়ে কদর ছিল। বালামের পাশাপাশি নানা জাতের ধান-চাল বেচাকেনা হয় এ হাটে।
হাটের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ‘কুটিয়াল’রা—যাঁরা ধান কিনে চালে রূপান্তর করেন। নৌকা থেকে কেনা ধান প্রথমে পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়, ভোরে বড় চুলায় বিশেষ পাত্রে সেদ্ধ করা হয়, তারপর দুই-তিন দিন কড়া রোদে শুকিয়ে চালকলে ভাঙানো হয়। একসময় বানারীপাড়ার ঘরে ঘরে কুটিয়ালদের যে ব্যস্ততা ছিল, তা এখন অনেকটাই কমে এসেছে।
বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের নানা জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা নদীপথে এই হাটে আসেন। এক নৌকা ধান নিয়ে আসা বরগুনার ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন বলেন, এখানে ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া যায়, আর ফেরার পথে তুলনামূলক কম দামে ভালো চাল কেনা যায়; নদীপথে পরিবহনের সুবিধা ও ব্যবসায়িক বিশ্বস্ততার কারণে তিনি দশকের পর দশক এ হাটে আসছেন।
মূল হাট বসে শনিবার ও মঙ্গলবার। আগের দিনের হাটের রেশ ধরে রবি ও বুধবারও কিছু বেচাকেনা চলে, যাকে স্থানীয়রা বলেন ‘গালার হাট’।
প্রতিবেদন: সমকাল, বরিশাল।
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)