বাগেরহাটে সেচের দায়িত্ব এখন নারী কৃষি উদ্যোক্তাদের হাতে, আর তাঁদের পাম্প চলে সূর্যের আলোয়। সদর ও রামপাল উপজেলায় বসানো সাতটি সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পের প্রতিটি চালাচ্ছে ৪০ জন নারীর একটি কমিটি। তেল বা বিদ্যুতের খরচ না থাকায় সময়, শ্রম আর টাকা তিনই বাঁচছে।
পাম্পগুলো বসেছে রামপালের উজলকুড় ইউনিয়নে তিনটি, ভোজপাতিয়ায় দুটি এবং সদরের ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের সায়েড়া গ্রামে দুটি। মাছ আর কৃষিনির্ভর এ এলাকার নারী উদ্যোক্তাদের সেচ সহজ করতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে এগুলো দিয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আইআরভি। ডিজেল ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও বাড়ছে।
পূর্ব সায়েড়া পূর্বপাড়া কৃষি নারী উদ্যোক্তা ফোরামের সভাপতি দীপিকা মিস্ত্রি জানান, আগে শীতের সবজিখেতে পানি দিতে মাছের ঘের বা খাল থেকে কষ্ট করে পানি টেনে আনতে হতো, তাই ইচ্ছা থাকলেও বেশি জমিতে চাষ করা যেত না। এখন পাম্পটি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে পাইপে দূরের জমিতেও পানি দেওয়া যায়, আর বাঁচা সময়ে তাঁরা আরও বেশি জমি চাষ করছেন।
পূর্ব সায়েড়া মধ্যপাড়া নারী উদ্যোক্তা ফোরামের সভাপতি লাভলী মণ্ডল বলেন, আগে অন্যের জমির শ্যালো মেশিন ভাড়া নিতে হতো, মেশিন আনা-নেওয়া আর তেলের খরচ মিলিয়ে কাজটা ছিল কষ্টের। এখন সূর্যের আলোয় সরাসরি ধান ও সবজিখেতে পানি যাচ্ছে, তেল বা বাড়তি বিদ্যুৎ লাগছে না।
আইআরভির নির্বাহী প্রধান মেরিনা যুথি বলেন, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও নারীর ক্ষমতায়নে সৌরচালিত সেচ পাম্প বড় ভূমিকা রাখছে; নারীরা এখন শুধু পাম্পের ব্যবহারকারী নন, উদ্যোক্তাও। এ জন্য নারীবান্ধব প্রযুক্তি ও প্রণোদনা আরও বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন তিনি।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোতাহার হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে সেচ সচল রাখতে সৌরশক্তি সহায়ক হচ্ছে; সরকারও এমন প্রকল্প নিচ্ছে, আর কৃষি বিভাগের মাধ্যমে কৃষকদের সোলার পাম্প দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। প্রতিবেদনে ঝিনাইদহের ৩৬টি পাম্পের কথাও আছে, যেখানে বিঘাপ্রতি সেচ খরচ ৪০০-৫০০ থেকে নেমে প্রায় ২০০ টাকা হয়েছে বলে জানিয়েছে আরআরএফ। প্রতিবেদনটি এগ্রিকেয়ার২৪ প্রকাশ করেছে বাংলা ট্রিবিউনের সূত্রে।
ছবি: বিদ্যুৎ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)