সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বাগদা চিংড়ির রেণু উৎপাদনকারী ওশান হ্যাচারিতে বসছে ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, যার প্যানেল প্রয়োজনমতো ভাঁজ করে একপাশে সরিয়ে রাখা যায়। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি, বাগদা চিংড়ির হ্যাচারিতে এমন প্রযুক্তি বাংলাদেশে এটিই প্রথম। প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে সাইমা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ও জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশ।
প্রকল্প থেকে মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা আছে, তার ৪০ থেকে ৫০ হাজার ইউনিট বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া যাবে। ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ জমিয়ে রাখার ব্যবস্থাও থাকবে, ফলে গ্রিডে বিদ্যুৎ না থাকলেও হ্যাচারি চলবে।
প্যানেল ভাঁজ করার সুবিধা কেন দরকার, ব্যাখ্যা করেন হ্যাচারির মালিক আব্দুল আজিজ: বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হ্যাচারির ছাউনি খুলে পুকুর আর ট্যাংক রোদে শুকাতে হয়। সাইমা পাওয়ারের পরিচালক (অপারেশনস) সাজেদুল করিম বলেন, এখন প্যানেল সরিয়ে পুরো জায়গা খালি করা যাবে, তাই হ্যাচারির কাজও স্বাভাবিক থাকবে। প্রকল্পে প্রায় ১ কোটি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে; নিজের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে দিয়ে খরচ কমবে বলে আশা আজিজের।
বুধবার (৭ অক্টোবর) চায়না জেনিক্সগ্রিনের পরিচালক ডন, জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশের প্রধান প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান, সাইমা পাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মো. গোলাম মোস্তফা আর বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কর্মকর্তাদের একটি দল প্রকল্প এলাকা ঘুরে প্যানেল বসানোর পদ্ধতি, উৎপাদনের সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের সমন্বয়, সংযোগ আর নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে সরকার, আর প্রতিষ্ঠানগুলোর বাড়তি সৌরবিদ্যুৎ সরকার ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা ৫০ পয়সায় কিনবে। তাঁর মতে, শ্যামনগরের অন্য হ্যাচারিতেও এমন প্রকল্পের যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে; সাজেদুল করিমও আশা করছেন, এটি দেশের চিংড়ি হ্যাচারিগুলোর জন্য মডেল হবে। প্রতিবেদনটি ঢাকা ট্রিবিউনের।
ছবি: Judgefloro / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)