চরাঞ্চলে মানসম্মত সবজির চারার অভাব মেটাতে পলিসেড হাউসে ট্রেতে চারা উৎপাদনের দিকে জোর দিচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)। এসব হাউসে তোলা চারা আশপাশের চরের কৃষকদের কাছে কম দামে বিক্রি হবে, আর হাউস পাওয়া কৃষকেরা নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন, এটাই লক্ষ্য। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫ শতাংশ আয়তনের ১২১টি পলিসেড হাউস বসানোর পরিকল্পনা আছে।
বুধবার সাভারের রাজালাক হর্টিকালচার সেন্টারে ‘বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’-এর আওতায় পলিসেড হাউস পাওয়া ৬০ কৃষকের পাঁচ দিনের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শুরু হয়। সেখানে ট্রেতে চারা উৎপাদনের কৌশল, এর প্রয়োজনীয়তা, হাউসের রক্ষণাবেক্ষণ আর উৎপাদন ব্যবস্থাপনা শেখানো হচ্ছে।
ডিএইর মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, পলিসেড হাউস পাওয়া কৃষকেরা নিজ নিজ এলাকায় ‘লিড ফার্মার’ হিসেবে পরিচিত হবেন। তাঁরা নিজেরা উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি মানসম্মত চারা স্থানীয় চরের কৃষকদের কাছে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করবেন, তাতে ভালো চারা মিলবে আর সবজির উৎপাদন বাড়বে।
প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ জিয়াউর রহমান জানান, গত বছর বসানো পলিসেড হাউসগুলোতে ট্রেতে চারা উৎপাদন খুব সফলভাবে চলছে, আর সেসব কৃষক চারা বিক্রি করে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন। চলতি বছরের ১২১টি হাউস যেন সফলভাবে উৎপাদনে যায়, সে জন্য কৃষকদের সহযোগিতা চান তিনি।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, চরের কৃষির বড় চ্যালেঞ্জ মানসম্মত চারা আর আধুনিক প্রযুক্তি হাতের কাছে না পাওয়া। স্থানীয়ভাবে চারা উৎপাদন হলে দূর থেকে চারা আনার নির্ভরতা কমবে, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে, আর চরের কৃষি উৎপাদনে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অনুষ্ঠানে ডিএইর পরিচালক মো. রওশন আলম ও ড. মো. মজিবর রহমান উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনটি নয়া দিগন্তের।
ছবি: Judgefloro / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: নয়া দিগন্ত





মন্তব্য
(০)