ভারতের হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউওএইচ) গবেষকেরা বের করেছেন টমেটো গাছ কীভাবে নিজের ভেতরের ফসফেটের মজুত সামলায়। তাঁদের মতে, এ আবিষ্কার অনেক কম রাসায়নিক সারে বেশি ফলনের ফসল উদ্ভাবনে সাহায্য করতে পারে। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের দ্য টমেটো ল্যাবে অধ্যাপক রাহুল কুমারের নেতৃত্বে, অভিষেক রায়চৌধুরীকে নিয়ে করা গবেষণাটি জার্নাল অব এক্সপেরিমেন্টাল বোটানিতে প্রকাশিত হয়েছে।
সমস্যাটা হলো, গাছের বৃদ্ধির জন্য ফসফেট অপরিহার্য পুষ্টি, কিন্তু চাষাবাদ নির্ভর করে অনবায়নযোগ্য ও দামি রাসায়নিক ফসফেট সারের ওপর। গবেষক দল দেখেছে, পিএপি২৬বি (PAP26b) জিন পুরোনো পাতায় জমানো ফসফেট দ্রুত বাড়তে থাকা নতুন অংশে পাঠানোর কাজটি চালায়।
গবেষকেরা পিএপি২৬বি জিনকে নিষ্ক্রিয় করলে পুরোনো পাতা ফসফেট ফেরত পাঠানো বন্ধ করে দেয়। তখন মাটিতে স্বাভাবিক ফসফেট থাকলেও এসএলপিএইচএল১ নামের একটি নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে নতুন পাতা ও শিকড় পুরো গাছজুড়ে অভাবের সংকেত দিতে থাকে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, গাছের বিভিন্ন পাতার গিঁট নিজস্ব পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখে: নতুন পাতা ঘাটতির সংকেত দিলেও পুরোনো পাতা অপ্রভাবিত থাকতে পারে। এসএলএসপিএক্স২-এসএলপিএইচএল১ নিয়ন্ত্রণ পথের মাধ্যমে পিএপি২৬বি কীভাবে কাজ করে তা জানায় ফসলের ভেতরের ফসফেট ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে এখন একটি নির্দিষ্ট জিনগত লক্ষ্য পাওয়া গেছে বলে বিজ্ঞানীরা জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এর বাস্তব সুফল হবে কৃষকের উপকরণ খরচ কমা, কম রাসায়নিক ধুয়ে যাওয়ায় সুস্থ মাটি এবং খাদ্য নিরাপত্তার পথে এক ধাপ অগ্রগতি। কাজটি এখন পর্যন্ত টমেটোতে হয়েছে; এ বৈশিষ্ট্যের ফসল উদ্ভাবন হবে পরের ধাপ।
ছবি: Edukeralam (Navaneeth Krishnan S) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)