বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার যমুনাপাড়ের চর এখন মরিচের চারায় সবুজ হয়ে উঠছে। উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাবে চলতি মৌসুমে ৯১০ হেক্টরে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা, গত মৌসুমেও একই পরিমাণ জমিতে চাষ হয়েছিল। গতবার ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এবারও কৃষকেরা মরিচে আগ্রহী।
এখন চলছে খরিপ মৌসুমের চারা রোপণ, প্রায় ২০ দিন পর শুরু হবে রবি মৌসুমের রোপণ। স্থানীয় জাতের পাশাপাশি এবার বিজলী প্লাস, নবীন ও ১৭০১ জাতের হাইব্রিড মরিচে আগ্রহ বেশি। হাইব্রিডে বিঘাপ্রতি ৮০ থেকে ৮৫ মণ ফলন হয়, স্থানীয় জাতে ৪০ থেকে ৪৫ মণ; তবে স্থানীয় জাতের ঝাল বেশি, আর এটিই ‘বগুড়া মরিচ’ নামে পরিচিত।
মধুপুর, তেকানী চুকাইনগর ও পাকুল্লা ইউনিয়নের যমুনাতীরের চরে বেশির ভাগ জমিতে রোপণ প্রায় শেষ। ৩০ থেকে ৩৫ দিন বয়সী, প্রায় ১০ সেন্টিমিটার উঁচু চারা মূল জমিতে লাগানো হয়। এরপর সারির মাঝে হাতে বানানো যন্ত্রে নিড়ানি দিয়ে মাটি আলগা করা হয়, গোড়া একটু আলগা রেখে কয়েক দিন হালকা সেচ দিতে হয়। ঠিকমতো যত্নে ১৫-২০ দিনে গাছ প্রায় এক ফুট হয়ে ওঠে।
পূর্ব তেকানীর ছানাউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বগুড়ার মানুষ, মরিচের দাম পাই বা না পাই, চাষ করতেই হবে।’ এলাকায় মরিচ চাষ আগের চেয়ে বেড়েছে বলে জানান তিনি। মহেশপাড়ার আবু তাহের জানান, এর আগের কয়েক বছর বৈরী আবহাওয়ায় ব্যাপক ফসলহানি আর কম দামে বড় লোকসান হয়েছিল, গতবার দাম ভালো পাওয়ায় এবার চাষ বেড়েছে।
সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, গত মৌসুমে ফলন ও দাম দুই-ই ভালো ছিল, তাই কৃষকেরা আরও আগ্রহী। চলতি মাসেই রবি মৌসুমের রোপণ শেষ হবে, আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার উৎপাদন বাড়তে পারে। প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের বগুড়া সংবাদদাতার।
ছবি: Afifa Afrin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)