যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডাকোটার ফ্রেডরিকে কলাম লেখক কনি সিহ গ্রুপ (Connie Sieh Groop)-এর সবচেয়ে ফলবান আপেলগাছটি ঝড় আর বয়সে নষ্ট হয়ে গেছে। তার জায়গায় লাগানো হ্যারালসন রেড জাতের কচি গাছে এ বছর দেরিতে পড়া তুষারে ফুল ঝরে গেছে। দ্য ফেন্স পোস্টে তাঁর ‘ফল হোমল্যান্ড’ কলামে তিনি লিখেছেন, কঠিন শীতের এলাকায় আপেল ফলাতে কী লাগে।
উত্তরের এই সমভূমিতে শীতসহিষ্ণু আপেল অভিবাসী চাষিদের সাফল্য। মিনেসোটার বাগান বিষয়ক লেখক মেরি শিয়ার এক প্রশিক্ষণে জানান, ইউরোপ থেকে আনা বীজের চারা এখানে টিকত না; পরে জন হ্যারিস ও পিটার গিডিয়নের মতো চাষিরা কলম করে শূন্যের নিচে ২০-৩০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ঠান্ডা সইতে পারা গাছ তৈরি করেন। ১৯২৩ সালে আসা হ্যারালসন জাত পাই বানানোর আপেল হিসেবে জনপ্রিয় হয়, এটি চার মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।
সাউথ ডাকোটার অ্যাবারডিন শহরের বন কর্মকর্তা অ্যারন কিজ (Aaron Kiesz)-এর পরামর্শ, প্রথমে দেখুন গাছটি এলাকার শীতসহিষ্ণুতা অঞ্চলের (হার্ডিনেস জোন) উপযোগী কি না, আর স্থানীয় নার্সারি থেকে চারা কিনুন। সঠিক অঞ্চলেও তুষারই সবচেয়ে বড় ও অনিশ্চিত হুমকি। এ অঞ্চলে বামন জাত ভালো হয় না; আধা-বামন গাছ প্রায় ১৫ ফুট হয়, ছাঁটাই ও ফল তোলা সহজ; সাধারণ গাছ ২০-২৫ ফুট, সবচেয়ে সহিষ্ণু, তবে ফল ধরতে পাঁচ বছর লাগতে পারে।
তিনি খুব গভীরে চারা না লাগাতে, গর্তে কম্পোস্ট ও গোড়ায় দুই-তিন ইঞ্চি মালচ দিতে, খোলা বাতাসের জায়গায় খুঁটি দিতে বলেন, যাতে শিকড় না ছেঁড়ে; প্রথম বছরে সপ্তাহে দুবার প্রায় পাঁচ গ্যালন (১৮.৯ লিটার) পানি। সাধারণ সমস্যার মধ্যে আছে ফায়ার ব্লাইট নামের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যার শুরুতেই আক্রান্ত ডাল কেটে ফেলতে হয়; অ্যাপল স্ক্যাব ও সিডার অ্যাপল রাস্ট নামের ছত্রাকজনিত রোগ; কডলিং মথ, যার জন্য প্রথম মথ ওড়ার পর বেশির ভাগ পাপড়ি ঝরলে স্প্রে; আর অ্যাপল ম্যাগট মাছি, যা গাছে আঠালো লাল বল ঝুলিয়ে ধরা পড়ে।
মানুষ যাতে চিনতে পারে কোন জাত খাওয়া, রান্না বা পরাগায়নের জন্য ভালো, সে জন্য অ্যাবারডিন আর্বোরেটামে নামফলকসহ প্রায় ১০০টি ফলগাছ লাগিয়েছেন কিজ। কলামটি শেষ হয়েছে পরিচিত প্রবাদে: গাছ লাগানোর সেরা সময় ছিল ২০ বছর আগে, তার পরের সেরা সময় এখন।
ছবি: Paolo Neo / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: The Fence Post



মন্তব্য
(০)