অস্ট্রেলিয়ার কৃষিতে নতুন লোক যত আসছে, বয়স বাড়ছে তার চেয়ে দ্রুত। Beef Central-এ প্রকাশিত এক কলামে এ কথা লিখেছেন হ্যামিলটন লক প্রতিষ্ঠানের কৃষিব্যবসা আইনজীবী Trent Thorne (ট্রেন্ট থর্ন)। মতামত লেখকের নিজস্ব।
তাঁর দেওয়া হিসাবে কৃষি শ্রমশক্তির প্রায় ৩০ শতাংশের বয়স এখন ৬০ বা তার বেশি। ভেড়া খামারির গড় বয়স প্রায় ৬২, গরুর খামারির প্রায় ৬৪। অস্ট্রেলীয় কৃষকের গড় বয়স ৫৯, যা অন্য খাতের গড় কর্মীর চেয়ে প্রায় ২০ বছর বেশি। আগামী ১৫ বছরে দেশটির প্রায় অর্ধেক কৃষক অবসরে যাবেন বলে ধারণা। থর্ন একে বলেছেন "বেরোনোর দরজায় লম্বা লাইন", অথচ ঢোকার দরজায় লোক কম।
তিনি লিখেছেন, ১৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সীরা কৃষি শ্রমশক্তির প্রায় এক-চতুর্থাংশ, যেখানে পুরো অর্থনীতিতে তাঁদের অংশ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। তরুণেরা বড় মাঠ-ফসল ও পশুপালনের চেয়ে পোলট্রি ও উদ্যানফসলে বেশি যাচ্ছেন।
কারণ হিসেবে থর্ন কয়েকটি দিক দেখিয়েছেন। মালিকানা ও নেতৃত্ব এখনো মূলত পরিবারের ভেতরেই হাতবদল হয়, আর উত্তরাধিকার প্রায়ই লিখিত পরিকল্পনা নয়, মুখের কথা। সেবা থেকে দূরত্ব, দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক আর গ্রামে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি, এই বিচ্ছিন্নতা তাঁর মতে যেকোনো উপকরণ খরচের চেয়ে বেশি ক্ষতি করে। সঙ্গে আছে খামার কিনতে বিপুল পুঁজি, কাজের শারীরিক ধকল আর কৃষিতে পেশাগত উন্নতির সুযোগ কম, এমন ধারণা।
আশার দিকও আছে। ন্যাশনাল ফার্মার্স ফেডারেশনের AgCAREERSTART (এজিক্যারিয়ারস্টার্ট) কর্মসূচি ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের বেতনসহ খামারে কাজের সুযোগ দেয়; ২০২২ সাল থেকে দুই শতাধিক জন এতে যুক্ত হয়েছেন, যাঁদের অনেকে শহরের, মাটির সঙ্গে আগে কোনো সম্পর্ক ছিল না। বিভিন্ন পণ্যভিত্তিক সংগঠনও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির কর্মসূচি চালায়।
তবে থর্নের মতে এসব কর্মসূচি উপসর্গের চিকিৎসা করছে, রোগের নয়। তিনি চান শিল্প সংগঠন, পারিবারিক খামার ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান অবসরের অনেক আগেই উত্তরাধিকার ও নেতৃত্বের পথ লিখিতভাবে ঠিক করুক, গ্রামে ইন্টারনেট ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ করুক, আর কৃষিকে সৎভাবে তুলে ধরুক একটি সত্যিকারের পেশা হিসেবে, যেখানে নেতৃত্বে ওঠার সুযোগ আছে।
ছবি: CSIRO / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Beef Central





মন্তব্য
(০)